ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্রেক্সিট নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মাঝে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ছে৷ স্কটল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে৷ এদিকে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে আবারো উদ্যোগ গ্রহণে কাজ করছেন।

২০১৪ সালে এক গণভোটে স্কটল্যান্ডের ভোটাররা সামান্য ব্যবধানে ব্রিটেনে থেকে যাবার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন৷ ২০১৬ সালে গণভোটে সেখানকার প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন৷ তবে ব্রিটেনের মানুষ সামগ্রিকভাবে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেওয়ায় স্কটল্যান্ডের মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাবার সুযোগ পাচ্ছেন না৷ পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে তারা স্বাধীনতা চান কিনা, তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে৷ স্কটল্যান্ডের সরকার ও বিচ্ছিন্নতাবাদের সমর্থকরা ব্রেক্সিটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছেন৷ খবর ডয়চে ভেলের।

স্বাধীন স্কটল্যান্ডের প্রবক্তরা বৃহস্পতিবার থেকে তৃণমূল স্তরে নতুন এক আন্দোলন শুরু করতে চলেছেন৷ ‘ভয়েসেস ফর স্কটল্যান্ড’ নামের ক্রাউডফান্ডিং উদ্যোগ এরই মধ্যে প্রায় এক লক্ষ সমর্থক আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে৷ চাঁদা হিসেবে প্রায় এক লক্ষ পাউন্ড সংগ্রহ করেছে এই উদ্যোগ৷ যেসব ভোটার এখনো স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মনস্থির করতে পারছেন না, তাদের মন জয় করতে চেষ্টা করছেন তারা৷

এদিকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার বা মুখ্যমন্ত্রী নিকোলা স্টার্জন ২০২১ সালের মে মাসের আগেই স্বাধীনতার প্রশ্নে আবার গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতির ঘোষণা করেছেন৷ ব্রেক্সিটের কারণে লন্ডনের অনুমতি ছাড়াই এমন গণভোট সম্ভব বলে তিনি মনে করেন৷

উল্লেখ্য, স্কটল্যান্ডের জাতীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি সম্প্রতি চাপের মুখে পড়েছেন৷ বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের অর্থনীতির স্বার্থে ইইউতে থেকে যাওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন৷ তাই তার মতে, ভোটারদের ব্রেক্সিট ও স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো একটি বিকল্প বেছে নেবার সুযোগ পাওয়া উচিত৷ ২০২১ সালের ৫ই মে স্কটল্যান্ডের বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবার আগেই গণভোটের আয়োজন করতে চান স্টার্জন৷ চলতি বছরের শেষের মধ্যেই তার প্রস্তুতির লক্ষ্যে আইন পেশ করার ঘোষণা করেন তিনি৷

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আপাতত পদত্যাগের ডাক থেকে রেহাই পাচ্ছেন৷ ফলে খুব দ্রুতই ব্রিটিশ সংসদে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আবার ব্রেক্সিট নিয়ে তৎপরতা শুরু করতে পারেন৷ সংসদে তিন বার ইইউ থেকে বিচ্ছেদের চুক্তি অনুমোদন করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সম্ভবত এক ব্রেক্সিট আইন পেশ করতে চলেছেন৷ ঠিক সময়ে এই আইন পাস হলে ব্রিটেনকে আসন্ন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে হবে না৷

ডাব্লিইউএবি নামের এই আইন অনুমোদিত হলে ব্রেক্সিট সত্ত্বেও ব্রিটেন ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক অন্তর্বর্তীকালীন অবস্থায় থাকবে৷ এভাবে আচমকা ইইউ থেকে বিচ্ছেদের আশঙ্কা দূর হবে৷ এই সময়কালে ইইউর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা স্থির করা যেতে পারে৷ সরকার এই উদ্যোগে ব্যর্থ হলে ব্রিটেন আগামী ১লা জুন চুক্তি ছাড়াই ইইউ ত্যাগ করতে বাধ্য হবে৷

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930