সোমবার সকালে নগর ভবনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ

এ সময় সিটি মেয়র বলেন, ‘ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা এক অনবদ্য ইতিহাস। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ সমগ্র ভারতবাসীর কিংবদন্তিতুল্য সাহায্য-সহযোগিতা ও আত্মত্যাগের সফল পরিণতি বাংলাদেশ।

এমনকি সে সময়ে ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বিগত ১০ বছরে অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বে-টামিন্যাল, কন্টেইনার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে বন্দরে যে সক্ষমতা আছে, তা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বন্দরে প্রতিনিয়ত ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবহন গমন-বহিগমন করে থাকে।’

নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, ‘চট্টগ্রাম সম্ভাবনাময় একটি শহর। উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম অনেক দূর এগিয়েছে। ইতোপূর্বে আমি চট্টগ্রামে এসেছি। কিন্তু এ রকম শহর দেখিনি। চট্টগ্রামের এ উন্নয়নে আমি বিস্মৃত। বাংলাদেশ উন্নয়ন এগিয়ে যাক ভারত সরকারও তা চায়। এতে ভারতের সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশকে ভারত সবসময় বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসাবেই দেখে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে সেভেন সিস্টারসহ দু’দেশের জনগণের আর্থিক উন্নতি সম্ভব। চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমুখি ও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান, পুঁজি বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দু’দেশের জনগণের আর্থিক উন্নতি ঘটবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভরতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, চসিক প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম প্রমুখ।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এখন সোনালি অধ্যায়

সোমবার (১৭ জুন) দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের আন্তরিকতায় দুই দেশের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে এসেছে। এটিকে আমরা সোনালি অধ্যায় বলি।

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্রমে বাড়ছে। এদেশে ভারতের অনেক শিল্পকারখানা আছে। তারা এদেশে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। মোংলা ও মিরসরাই ইকোনমিক জোনে ভারতের জোন থাকবে।

মাস্টারদা সূর্য সেনসহ অনেক কারণে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাষা, কৃষ্টি, ম্যান টু ম্যান যোগাযোগ ইত্যাদি দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় করছে।

পারস্পরিক সর্ম্পক এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ২০১৮-১৯ সালে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মধ্যে বাংলাদেশের রফতানি ১ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তৈরিপোশাক রফতানি বেড়েছে। হিরো, টাটার মতো ভারতের অনেক বিখ্যাত কোম্পানি ৫৭০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি বিনিয়োগ করেছে। উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের এলডিসি স্ট্যাটাস পরিবর্তিত হলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিক বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে।

হাইকমিশনার বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধাগুলো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়ী নেতারা ভারত বাংলাদেশের নন ট্যারিফ ব্যারিয়ার, ট্রানজিট কার্গো মুভমেন্ট, কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানো, মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031