মিয়ানমার দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার জন্য বাংলাদেশকেই দোষারোপ করেছে । চীন এবং দেশটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল না হওয়ার পরও মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিউ লাইট অব মিয়ানমার বলছে, সম্ভাব্য প্রত্যাগমণকারীদের কাছে ‘ভেরিফিকেশন ফর্ম’ বিতরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। অভিযোগ তোলা হয়েছে, ৪’ শর বেশি হিন্দু শরনার্থীকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করা হলেও তাতে সাড়া দেয়নি ঢাকা।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপি’ডতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথম দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চেষ্টা হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ। প্রায় ৯ মাস প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকার পর এবার সরাসরি চীনের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় উদ্যোগী হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এ কারণে ৩৪৫০ রোহিঙ্গাকে গ্রহণে অনাপত্তি জানিয়ে দ্বিতীয় দফায় নতুন তালিকা পাঠায় নেপি’ড। প্রত্যাবাসন শুর করার তারিখ নির্ধারিত হয় ২২ শে আগস্ট। কিন্তু এবারও কোন রোহিঙ্গা ফিরতে রাজি হয়নি। ফলে বাংলাদেশের পূর্ণ প্রস্তুতি সত্বেও প্রত্যাবাসন চেষ্টা ভন্ডুল হয়ে যায়। প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের চেষ্টায় কোনো ত্রুটি বা গাফলতি না থাকলেও এই ব্যর্থতার দায় বাংলাদেশের ওপরই চাপিয়েছে মিয়ানমার। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিউ লাইট অব মিয়ানমার অং সান সুচি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলছে, ‘বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বচ্ছন্দ প্রত্যাবাসনের জন্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রয়োজন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রত্যাগমনকারীকের কাছে সঠিক কাগজপত্র বিতরণ করতে না পারার অভিযোগ তোলে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয় বাংলাদেশ ‘ভেরিফেকেশন ফর্ম’ যথাযথ ব্যক্তিদের কাছে বিতরণ করেতে পারেনি। তবে বিতর্কিত এই ফর্ম পূরণ করা হলেও তাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীন ও জাপান সমর্থন দিচ্ছে জানিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই মাসের শুরুতে চীন সরকার নিশ্চিত করে যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার কোনও রোহিঙ্গা ফেরত না যাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোনেম। তিনি বলেন, নাগরিকত্বের দাবি আদায়ে বাংলাদেশকে জিম্মি করছে রোহিঙ্গারা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নানা অজুহাতে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও অন্তত সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930