গত রবিবারের এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হলেও ভোলা ছিল শান্ত। সবধরনের সভা-সমাবেশে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তিমূলক কিছু বার্তাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় বোরহানউদ্দিনসহ ভোলার সবখানে এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মঙ্গলবার পূর্বঘোষিত কালো পতাকা বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে বিকালে শহরের হাটখোলা মসজিদে নির্ধারিত স্থানে কাউকে আসতে দেখা যায়নি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুলিশি বাধার মুখে তাদের সভা স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে সকাল থেকেই হাটখোলা মসজিদ চত্বরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন ছিল। শহরজুড়ে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়।

ভোলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করতে না পারলেও জেলার দৌলতখান উপজেলায় বুকে কালো ব্যাচ ধারণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা।

এদিকে ভোলার ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিচার দাবিতে আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম মঙ্গলবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিলেন ডাক দেয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এই বিক্ষোভ হলেও ভোলায় হেফাজতের কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি। 

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সবধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন।

সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশি বাধার কারণে ভোলা শহরে আমাদের আজকের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে দৌলতখান উপজেলায় আমাদের বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বাকি উপজেলায় আমরা খবর নিতে পারিনি। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি যথানিয়মে চলবে।

এদিকে দুপুরে শহরের কালিনাথ রায়ের বাজার এলাকা থেকে দুজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের কী কারণে আটক করা হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলেনি পুলিশ।

ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, সবধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুরো জেলার সার্বিক পরিস্থতি শান্ত রয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031