প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচ দেখতে আজ শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় যাচ্ছেন। সেখানে দিনভর কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাতেই তিনি ফিরবেন ঢাকায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এই সফরে যাচ্ছেন। তবে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে না শেখ হাসিনার। এমনকি ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনিও থাকছেন না।

তবে একদিনের এই সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনবার দেখা হবে শেখ হাসিনা। আনুষ্ঠানিকতার ফাঁকে দুই নেতার একান্তে বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ উঠবে না বলে আভাস দিয়েছে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

শুক্রবার ভারতের প্রভাবশালী আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, হাসিনার এ দিনের কলকাতা সফর মূলত ইডেনে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট ম্যাচ উপলক্ষে। তবে হাসিনা-মমতার বৈঠক গোলাপি বলে ম্যাচের চেয়ে কম আকর্ষণীয় নয়। কারণ, তিস্তা চুক্তি-সহ ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক যে সব বিষয় এখনও অমীমাংসিত তার অনেকগুলিই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত।

আনন্দবাজার জানায়, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের জানান, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বার আমার দেখা হবে। দুপুরে ইডেনে, সন্ধ্যায় তাজ বেঙ্গল হোটেলে, তার পর আবার ইডেনে— সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।’

আনন্দবাজারের ভাষায়, বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিনিট কুড়ির সৌজন্য সাক্ষাতে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি সম্ভবত তুলছেন না হাসিনা। ওই সূত্রের মতে, তিস্তা নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে ঢাকা। এ বিষয়ে সহমত তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে কয়েক মাস আগে হাসিনার দিল্লি সফরের সময়েও মোদি সরকার আশ্বাস দিয়েছে।

তিস্তা নিয়ে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর যে ভিন্নমত রয়েছে, হাসিনা সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল। মমতা বহু বার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ‘স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে’ কোনো চুক্তি তিনি চান না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। এ বারে সেই আন্তরিকতাকে আরও বাড়িয়ে তোলা তার উদ্দেশ্য। গত বছর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। তখন হালকা চালে মুখ্যমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশের ইলিশ পাঠানোর কথা বলায় হাসিনা বলেছিলেন, ‘আপনি পানি দিন। আমিও ইলিশ পাঠাব।’

আনন্দবাজার জানায়, তবে আপাতত সৌজন্যের আবহ রেখেই দুই নেত্রী কথা বলবেন বলে উভয় মহলেই খবর। তাই বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার মতে, তিস্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় হাসিনা এই সফরে না-ও তুলতে পারেন। মমতাও এ দিন বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে ভালবাসি। বাংলাদেশকে, বাংলার মানুষকে ভালবাসি। ভাষা, সংস্কৃতি, সভ্যতা— আমাদের সবই তো এক।’

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, ঘরোয়া মহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুক্রবার তার কলকাতা সফর হবে নিছক ক্রিকেটীয়, রাজনীতির কোনো মারপ্যাঁচ তাতে থাকবে না। ক্রিকেট-অন্ত-প্রাণ হাসিনার কথায়, ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশের জাতীয় দল টেস্ট খেলবে, এটা বিরাট ব্যাপার। সেই ক্ষণটিতে হাজির থাকার জন্য আমন্ত্রণ পাওয়া মাত্র তিনি হ্যাঁ বলেছেন।

তিস্তা প্রসঙ্গ না উঠলেও একটি বিষয়ে মমতার কাছে কিছু প্রস্তাব শেখ হাসিনা দিতে পারেন বলে জানায় আনন্দবাজার। তা হলো, কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িগুলি এবং কলকাতায় স্বাধীন বাংলা সরকারের সদর দপ্তর বলে চিহ্নিত বাড়ির সংরক্ষণ। আগামী বছর শেখ মুজিবের জন্মশতবর্ষ। তার ছাত্রজীবন যেমন এই কলকাতায় কেটেছে, প্রবাসী সরকারের রাজধানীও ছিল কলকাতার একটি বাড়িতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চান, বাবার স্মারক ভবনগুলির সঙ্গে ওই বাড়িটিও সংরক্ষণ করে প্রদর্শনশালা করা হোক। এ বিষয়ে একেবারে মৌখিকভাবে মমতার কাছে হাসিনা কিছু প্রস্তাব দিতে পারেন।

আনন্দবাজার জানায়, মমতার জন্য তার প্রিয় হালকা রঙের জামদানি শাড়ি ও মিষ্টি নিয়ে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলার শাড়ি উপহার দেবেন মমতাও। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্যও পাঞ্জাবি এবং মিষ্টি আনছেন শেখ হাসিনা।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031