বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (এনআরসি) নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতীয় পার্লামেন্টে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন। রোববার বিকাল ৩ টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেরনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন এক সোনালী অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের নেতারা প্রায়ই এমন দাবি করলেও ভারতের লোকসভায় অমিত সাহা বলেছেন, সেই বন্ধু প্রতিম বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরা এখনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নাম উচ্চারণ করে শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাবে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ব্যাপক হারে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়েছে। নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় ভারতে পালিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নকারী দল হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কাঁধে বন্দুক রেখে মিথ্যাচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে এ অঞ্চলের রাজনীতিকে একটি অসুস্থ পরিবেশের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এদেশের বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের কথা এড়িয়ে গিয়ে ইচ্ছাপ্রণোদিতভাবে বিএনপির মতো একটি অতি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করায় এটি প্রমাণিত হয় যে, বর্তমান ভারত সরকার তার সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বাংলাদেশের জনগণের পরিবর্তে নতজানু আওয়ামী সরকারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে বেশি আগ্রহী ।
ফখরুল আরো বলেন, বিএনপি দৃঢ়ভাবে মনে করে যে, বিজেপির সভাপতি ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব অমিত শাহ এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জনাব রাবীশ কুমার উভয়ের বক্তব্যই দুঃখজনকভাবে অসত্য, অপব্যাখ্যামূলক, একপাক্ষিক, বৈষম্যমূলক, বিভ্রান্তিকর এবং চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের উক্ত বক্তব্য আমরা দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করছি।
মির্জা ফখরুল ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
