হানাহানি বন্ধ হওয়া উচিৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে বলে মন্তব্য করেছেন কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। আজ দুপুরে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবুল মকসুদ বলেন, এরাই একদিন রাষ্ট্রের এবং সমাজের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সেই জায়গায় যদি মারামারি হানাহানি ঠেলাঠেলি হয়। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
তিনি বলেন, এখান থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে সমাজের ও রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে যারা আছে, তাদেরকে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে সরকারি দলকে সংযত আচরণ করতে হবে। সরকারি দলের যারা বেশী ক্ষমতা দেখায়, তারা যাতে অন্য সংগঠনের উপরে হানাহানি না করে। তারা নিজেরাও তো হানাহানি করছে বিভিন্ন জায়গায়। হানাহানি বন্ধ হওয়া উচিৎ। কারণ এটা জ্ঞান চর্চার জায়গা, বিদ্যা শিক্ষার জায়গা। এখানে এইগুলি হবে কেন?
আবুল মকসুদ বলেন, আমাদের সন্তানেরা এখানে আসে জ্ঞান চর্চার জন্য। তারা দেশকে অনেক কিছু দেবে। যদি তারা এখানে মারারমারি করে তাহলে কেমন করে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আসা করবো। সরকারের এ দিকটাতে দৃষ্টি দিতে হবে।
এর আগে আহতদের দেখতে যান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম নৃশংস হামলা কিভাবে হয় এটাই আমরা বুঝতে পারলাম না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রশাসন আছে বলে আমাদের মনে হয় না অথবা প্রশাসন নিজেই হামলার মদদদাতা।
সাকি বলেন, প্রশাসনের যদি কোনো প্রশাসনিক চরিত্র থাকতো তাহলে এভাবে ছাত্রদের ওপর কোন একটি পক্ষের লাইট অফ করে হামলার মতো ঘটনা ঘটতো না। এই হামলা অত্যন্ত নৃশংস ছিলো। গত কয়েকদিন ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কয়েকটি বক্তব্য শুনেছি। প্রক্টর ডাকসুর ভিপির কয়েকটি বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত একজন ভিপি কি বক্তব্য দেবেন- এটা প্রোক্টর নির্ধারণ করবেন না। একজন ভিপি শিক্ষাঙ্গন, সারাদেশ এমনকি সারাবিশ্ব নিয়ে কথা বলতে পারবে। এটি তার স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে প্রক্টর ভিপির বক্তব্যের যে মন্তব্যগুলো করেছেন তাতে মনে হচ্ছে এই হামলায় তার সমর্থন আছে।
তিনি বলেন, প্রক্টরের কাজ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীরা কি আন্দোলন করবে সেটি নির্ধারণ করা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকা দেখে তারাই যে এই হামলাগুলো করাচ্ছেন না এটি আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগ চাই।
