দেশটির সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, শনিবার মুখতার আব্বাস নাকভি সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ওপরের মন্তব্য করেন।
মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন, ‘যারা নিজেদের স্বার্থে বিভ্রান্তি ও ভয় ছড়াচ্ছে তাদের জানা উচিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কখনোই প্রত্যাহার হবে না। একটি অন্তর্ভুক্তমূলক সমাজ গঠনে বিজেপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের মুসলমানদের নাগরিকত্ব কোনোভাবেই ঝুঁকিতে পড়বে না’।
বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে। বুকার পুরস্কারজয়ী অরুন্ধতী রায়সহ দেশটির বুদ্ধিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করছে।
নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিবেশী তিন দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে যেসব মানুষ ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছে তাদেরকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। তবে এক্ষেত্রে মুসলিমদেরকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে না।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ আন্দোলনকারীদের দাবি যে, নাগরিকত্ব আইনের কারণে ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিভাজন শুরু হবে। যা দেশটির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি সত্ত্বেও নাগরিকত্ব আইন সংবিধানের পরিপন্থী।
বিক্ষোভের মধ্যেই উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদের রাজনীতিক মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন, সংশোধিত আইনটির সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্টের ভেতরে-বাইরে বলা হয়েছে যে, আইনটি ভারতের নাগরিকদের জন্য নয়। ১৯৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে যে কেউই ভারতের নাগরিকত্ব পেত। বর্তমান সংশোধনীটি আলাদা। গত ৫-৬ বছরে পাঁচশরও বেশি মুসলমান নাগরিকত্ব পেয়েছে। এখনও যদি চায়, তাও পাবে। তারও ব্যবস্থা আছে’।
