ঘরে আগুন লাগলেও সব সম্পত্তি ছেড়ে সেই সব কাগজপত্র আগলাতে প্রাণের ঝুঁকি নিতে পিছপা হচ্ছেন না অনেকেই। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এনআরসি আতঙ্কে নথিপত্র যেন প্রাণের চেয়ে প্রিয় হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার এমনই  ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায়। খবর আনন্দবাজারের।

জানা গেছে, মঙ্গলবার চব্বিশ পরগনার দেগঙ্গা থানার বাসুদেবপুরের লিয়াকত আলির ঘরে আগুন লেগেছিল। লিয়াকত ও তার স্ত্রী দু’জনেই সেই সময়ে ছিলেন বাইরে। ঘরের ভিতরে ঘুমন্ত দুই সন্তানকে আগুনের গ্ৰাস থেকে উদ্ধার করতে পেরেছিলেন তারা। আগুনের শিখা ক্রমশ গ্রাস করছিল ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র। সেই সময়ে সবাই দেখেন, পাগলের মতো ওই দম্পতি আগুনের ভিতরে ঢুকে আলমারি ভেঙে কিছু একটা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

এর মধ্যেই বিকট শব্দে ফেটে যায় ছাদ। স্থানীয়রা কোনোভাবে আগুনের ভিতর থেকে বের করে আনেন ওই দম্পতিকে। ততক্ষণে হাত-পা পুড়ে অনেকটাই জখম হয়েছে লিয়াকত ও তার স্ত্রীর।

আগুনের ভেতরে আলমারিতে কী খুঁজছিলেন ওই দম্পতি। জানা গেছে, টাকাপয়সা কিংবা সোনাদানা নয়, আগুনের গ্রাস থেকে ভোটার কার্ড, বাচ্চাদের জন্ম সনদের ফাইলই বের করার চেষ্টা করছিলেন তারা। আগুনে পোড়া ঘরের দিকে তাকিয়ে পা ছড়িয়ে হা-হুতাশ করছিলেন ওই দম্পতি। আগুনে সব কিছু পুড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার জন্য নয়। বাসিন্দারা জানান, কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে ওই দম্পতি কাঁদছিলেন। বারবারই বলছিলেন, ‘সব পরিচয়পত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ঘর-সম্পত্তি গেল, কোনো প্রমাণও রইল না। এবার আমাদের দেশ ছাড়া হতে হবে’।

অরুন্ধতী রায় সম্প্রতি লিখেছেন, আসামের গ্রামে-গ্রামে ঘুরে তিনি দেখেছেন, দিনের পর দিন ঝড়ে, বন্যায় এলাকার অসহায় মানুষ সমস্ত সম্পত্তি ছেড়ে প্লাস্টিকে মোড়া কয়েকটি কাগজকেই আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছেন। প্লাস্টিকের মধ্যে রয়েছে তাদের পরিচয়পত্র।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031