বুঝতে পারছি না ভারত কেন এটা করল, এর কোনো প্রয়োজন ছিল না ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন। তবে এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানান শেখ হাসিনা।

দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় রাজধানী আবুধাবিতে গালফ নিউজকে প্রধানমন্ত্রী এই সাক্ষাৎকার দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতে পাড়ি দেওয়া কেউ বাংলাদেশে ফিরে এসেছে এমন ঘটনা ঘটেনি। তবে ভারতে তাদের অনেকে সমস্যার মধ্যে আছেন। তারপরও এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ সব সময়ই সিএএ এবং এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে আসছে। ভারত সরকারও সব সময় তাদের পক্ষ থেকে বলে আসছে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ব্যক্তিগতভাবে গত বছরের অক্টোবর মাসে নয়াদিল্লি সফরকালে আমাকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।’

শেখ হাসিনার মতে, যেকোনো বৃহত্তর ক্ষেত্র বিবেচনায় বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাস হয়। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে এই আইন সংশোধন করে ভারত। তবে সেখানে অবৈধভাবে থাকা কোনো মুসলিমকে নাগরিকত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এই আইনে।

সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার শুরুটা যেহেতু মিয়ানমারে, সেহেতু তাদেরই সমাধান করতে হবে।

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থেকে তারা ফিরতে চাইছে না। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের অবসান না হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে।

বাংলাদেশ কয়লা বিদ্যুতের দিকে মনোযোগ বাড়ালেও এক্ষেত্রে পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ এতদিন গ্যাসের ওপর নির্ভর করত। কিন্তু গ্যাস ফুরিয়ে আসায় উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এখন কয়লাসহ অন্যান্য উৎসের দিকে নজর দিতে হচ্ছে।

এছাড়া সাক্ষাৎকারে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031