গত ২১ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থেকে আইনজীবী ফখরুল ইসলামের ছেলে তানজিম আল-ইসলাম দিবস ও তার শ্যালক খালিদ হাসান ধ্রুবকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। সার্জেন্ট সেজে অপহরণ করা হয় কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ছেলে ও শ্যালককে।

এ ঘটনায় শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ডেমরা, মতিঝিল ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় অপহৃত দুইজনকেও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ফকর উদ্দিন, মাহমুদুর রহমান রাসেল, রশিদুজ্জামান তুষার, শফিকুল ইসলাম, এইচ এম মশিউর রহমান পাপ্পু, ইমতিয়াজ আহমেদ, আরিফুল ইসলাম নিশান ও আব্দুল্লাহ আল নোমান।

অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, তিনটি মোটরসাইকেল, একটি ম্যাগজিন ও পিস্তল, ডিএমপির ডিবি পুলিশের পাঁচটি জ্যাকেট, ডিএমপির পুলিশ সার্জেন্টের র‌্যাঙ্ক ব্যাজসহ একটি ইউনিফর্ম শার্ট এবং পুলিশ কনস্টেবল পদমর্যাদার একটি শার্ট, সাতটি স্টিলের লাঠি, তিনটি ওয়ারলেস সেট, চারটি পিস্তল সদৃশ্য লাইটার, ২০টি ইনজেকশন, সেনাবাহিনীর পোশাক তৈরির থান কাপড় উদ্ধার করা হয়।

রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

আবদুল বাতেন বলেন, ‘অপহরণকারীদের সঙ্গে আইনজীবী ফখরুল ইসলামের আগে থেকে সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে ফখরুলের পরিবারের সঙ্গে সু-সম্পর্ক ছিল। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তারা তানজিম ও তার মামা ধ্রুবকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।’

তিনি বলেন, ‘অপহরণকারী চক্র এর আগেও একই ধরনের ঘটনা অনেকবার করেছে। তারা পুলিশের  সার্জেন্ট সেজে গাড়িতে সিগন্যাল দিয়ে সুযোগ বুঝে অপহরণ করে থাকে।’
অপহৃত তানজিম আল ইসলাম দিবস রাজধানীর ধানমন্ডির ভার্টিক্যাল হরিজন (ভিএইচ) ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ‘এ’ লেভেল ছাত্র এবং খালিদ হাসান ধ্রুব ঢাকা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। মঙ্গলবার ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পর তাদেরকে অপহরণ করা হয়। পরের দিন ২২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩ টায় একজন তানজিমের মাকে ফোন করে অপহরণ

বিষয়টি জানান।
অপহরণকারীরা নৌকা কোড ব্যবহার করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং ২৪ জানুয়ারির মধ্যে মুক্তিপণ না দিলে তাদেরকে হত্যা করাও হুমকি দেন বলে জানান আবদুল বাতেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031