জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ স্টিয়ারিং কমিটির নেতারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন ।
এর আগে ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহসীন রশীদ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই বছর কারাবাসের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল দাবি করে বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীরা যত ভোটে বিজয়ী হয়েছেন, তার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বাদে বাকিটা ‘জাল ভোট’।
এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন উপস্থিত ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির নেতারা। শুরুতে প্রশ্ন রাখা হয়- ‘সভা, সংবাদ সম্মেলন’ ছাড়া রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির মতো কোনো কর্মসূচিতে ঐক্যফ্রন্টের দেখা পাওয়া যায় না। জনগণের ওপরই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া এবং জোট ব্যর্থ কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নেতারা বলেন, ‘জনগণই এগিয়ে আসবে।’
রাজনৈতিক দলের যে সভা, সমাবেশ তা এই জোটের দেখা যায় না। শুধু সচেতনতা তৈরি করে যাচ্ছেন। জনগণের ওপরেই কেন সব দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন? রাজনৈতিক দল হিসেবে তো নেতাদেরও মাঠে থাকার কথা। এ প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘জনগণের ওপর ভর করেই রাজনীতি। শক্তি জনগণের। তাদের উৎসাহী করতে আমাদের করণীয় অবশ্যই করে যাব। সভা, মিছিল, মিটিং সবই হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে, পরিবর্তন এনেছে। তার ব্যতিক্রম হবে না। জনগণের মধ্যে একটা ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। জনগণ এগিয়ে আসবে। সরকার যা চাইছে, তা করতে পারবে না।’
একই প্রশ্নের জবাবে তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিইনি। জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। সে কারণেই আমরা জনগণের ওপর আস্থা রেখেছি। কিন্তু সরকার জনগণের আস্থা কেড়ে নিয়েছে, ভোট কেড়ে নিয়েছে। আমরা জনগণকে দায়িত্ব দিয়েছি।’
ড. কামাল বলেন, ‘আমরা জনগণের কাতারে আছি। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করে।’
মানুষের মুক্তির জন্য ঐক্যফ্রন্ট কী করছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। আমরা বলে যাচ্ছি। সরকার দায়িত্বহীনভাবে সংবিধানের পরিপন্থী কাজ করে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ধ্বংস করেছে। এর ফলেই আজকে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’
তবে ঐক্যফ্রন্ট আহ্বায়ক আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষ একদিন অসহ্য হয়ে এর পরিবর্তন আনবে।’
জনগণ তাঁদের সঙ্গে আছে কি না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, ‘জনগণ পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে ছিল।’
ঐক্যফ্রন্ট দুই প্রার্থীকে সমর্থন দিল, কিন্তু সেই নির্বাচনে মাঠে থাকতে তারা ব্যর্থ কিনা? এতে সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ পায় কিনা? এ ছাড়া চারটি পথসভার ঘোষণা দিলেও তা হয়নি- এসব প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল বলেন, ‘আমাদের কাজগুলোকে জোরদার করতে হবে। জনগণকে নিয়ে পরিবর্তন আনতে আমরা বাধ্য। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত কামাল হোসেন ও মঈন খানকে সহযোগিতা করতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এখন থেকে তাদের মাঠে দেখা যাবে।’
খালেদার মুক্তি আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তারা কি যথাযথ কর্মসূচি দিতে পেরেছে- এ প্রসঙ্গে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে নির্দেশনা দেওয়া। কার্যকর করবে জনগণ।’
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহসীন রশীদ, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়কারী শহিদুল্লাহ কায়সার, বিকল্পধারা বাংলাদেশের একাংশের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বেপারী।
