শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে জানিয়েছেন । তিনি বলেছেন, ‘পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটি বিবেচনায় নিয়েই বিশেষভাবে তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।’ এছাড়া তদন্ত করে এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দীপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সেসব খাতা শনাক্ত করে আলাদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বিশেষভাবে তা মূল্যায়ন করা হবে।’

গত শনিবার এসএসএসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিনের এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রে ১৮টি কেন্দ্রে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয় অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি প্রশ্নপত্র দিয়ে।

এ ঘটনায় ভুলের শিকার হওয়া পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের ঘটনা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের সময় এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন দীপু মনি। মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ৫২ হাজার কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। তার মধ্যে ১৫টি কক্ষে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষার প্রথমদিন প্রশ্নপত্র বিতরণে এ ভুল হয়। যদিও নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন বিতরণ করার আগে তা আলাদা করা তাদের (শিক্ষকদের) দায়িত্ব। পরীক্ষার্থীরও প্রশ্ন পাওয়ার পর একনজর দেখলে ভুল ধরা পড়ে। কিন্তু এটি পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষককে দেখে প্রশ্ন বিতরণ করার কথা থাকলেও সেখানে ভুল করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এমন ভুল কেউ অমনোযোগী হয়ে করেছে, নাকি তা ভুলে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো শিক্ষকের অমনোযোগিতা ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সেসব খাতা আলাদা করে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

গাইড থেকে হুবহু এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য প্রায় ৬ হাজার সেট প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। তার মধ্য থেকে নির্বাচন করে ২ হাজার ৮৯০টি সেট প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। এ জন্য অনেক মডারেটর কাজ করেছেন। তাই কে ভুল করেছেন তৎক্ষণাৎ বিষয়টি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

দীপু মনি বলেন, শিগগিরই সব গাইড বই, নোট বই ব্যবহার বন্ধ করা হবে। এছাড়া গাইড বই, নোট বই বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ নিতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মাহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহাবুব হাসান, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031