ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সংশোধিত নাগরিক আইন (সিএএ) নিয়ে আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সপরিবারে ভারত সফরের মধ্যে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী শহর। নাগরিকত্ব  আইনের পক্ষ-বিপক্ষে এই হাঙ্গামায় পড়ে নিহত হয়েছেন পুলিশের একজন হেড কনস্টেবলের। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব দিল্লির একাধিক জায়গায় নতুন করে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।

সোমবার  দুই দিনের সফরে ভারতে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সন্ধ্যায় আগ্রার তাজমহল পরিদর্শন শেষে  দিল্লি যান তিনি। ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দিল্লি সফরে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন বলে এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ট্রাম্পের সফরের প্রথম দিনই ঘটল এই সংঘর্ষ। তাতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। শান্তি বজায় রাখতে ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া। দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজলও।

শনিবার রাত থেকে শাহিন বাগের ধাঁচে বিক্ষোভ চলছে জাফরাবাদের রাস্তায়। কয়েক শ মহিলা জড়ো হন সেখানে। তা নিয়ে রবিবার পুলিশকে হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপির কপিল মিশ্র। তিন দিনের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের না হঠালে তারাও পাল্টা রাস্তায় নামবেন। সেই নিয়ে রবিবারই  তেতে উঠেছিল জাফরাবাদ।

গতকাল দুপুরেও তা নিয়ে বিক্ষোভ চলছিল গোকুলপুরি, ভজনপুরা এলাকায়। তখনই সিএএ-র সমর্থনে একদল মানুষ সেখানে এসে হাজির হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে সিএএ বিরোধী মিছিলের সামনে হাজির হয় দলটি। তাতে রাস্তার ওপরই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একে অপরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট ছুড়তে থাকে। বেশ কিছু গাড়ি ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি একটি পেট্রোল পাম্পেও আগুন ধরানো হয় বলে অভিযোগ।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তাতে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করে। পুলিশকে লক্ষ্য করেও ইটবৃষ্টি শুরু হয়। তাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রতনলাল নামের এক হেড কনস্টেবল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

ইটের আঘাতে আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। জিটিবি হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার সময়কার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে পিস্তল উঁচিয়ে পুলিশকে শাসানি দিতে দেখা গিয়েছে এক যুবককে। এমনকি গুলির শব্দও শোনা গেছে। তবে ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

ক্ষোভ যাতে চরম আকার ধারণ না করে, তার জন্য ইতিমধ্যেই জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, জোহরি এনক্লেভ এবং শিব বিহার মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ট্রেন দাঁড়াবে না। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারাও জারি হয়েছে।

এ দিনের ঘটনার জন্য বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রকে দায়ী করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। রবিবার  জাফরাবাদে অশান্তির পর থেকে টুইটারে একাধিক মন্তব্য পোস্ট করেছেন কপিল মিশ্র। কোথাও তিনি লেখেন, ‘দিল্লিতে দ্বিতীয় শাহিন বাগ হতে দেব না।’

এই ধরনের মন্তব্য করে কপিল মিশ্রই জাফরাবাদে হিংসায় মদত জুগিয়েছেন বলে এ দিন অভিযোগ করেছেন ওয়াইসি।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031