যুক্তরাষ্ট্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান দীর্ঘ ১৮ বছরের যুদ্ধ অবসানে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে । শনিবার কাতারের রাজধানী দোহাতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ও তালেবানের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের প্রতিনিধিরা। তালেবান জানিয়েছে, সহিংস পথ ছেড়ে উদার ইসলামের দিকে এগিয়ে যাবে তারা। সংগঠনটির দাবি, তারা তাদের আদর্শের আধুনিকায়ন করছে। নারীদের ব্যবসা, মালিকানা, শিক্ষা গ্রহণ, চাকরি করা, সঙ্গী নির্বাচন ও স্বাধীনভাবে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছে তালেবান। অপরদিকে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে পর্যায়ক্রমে তার সেনাদের প্রত্যাহার করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বলা হয় আফগান যুদ্ধকে। এই যুদ্ধ অবসানে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দোহায় যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ওয়াশিংটন থেকে দোহায় নেমে কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। চুক্তি নিয়ে কাবুলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এক টুইট বার্তায় বলেছে, আফগানিস্তানের জন্য স্মরণীয় একটি দিন শনিবার। এই চুক্তির ফলে আফগানিস্তানে মোতায়েনরত সৈন্যদের ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার শঙ্কায় এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে জাতির কল্যাণের জন্য আফগানিস্তানে আর কোনো ধরনের হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে সব যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আমরা প্রত্যাশা করছি, শান্তি চুক্তি এবং সমঝোতার সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অঙ্গীকারের প্রতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে। আফগান লাখ লাখ নাগরিকের আশা এই চুক্তির ফলে দেশের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি হবে। তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তালেবান হয়ত সুযোগ পেলে আবারো তাদের কট্টোর চিন্তাধারা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনে আফগানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার হামলার কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন হামলায় কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তানে মোতায়েনকৃত ১৩ হাজার সৈন্যের মধ্যে থেকে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ জনকে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হবে। পশ্চিমা অন্যান্য দেশের সৈন্যও তালেবানের সহিংসতার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।
