মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করোনার ভয়াল থাবা মোকাবেলায় আট দশমিক তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গতকাল মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসে আট বিলিয়ন ডলার বরাদ্ধের একটি বিল পাস হয়। শুক্রবার ওই বিলে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মোকাবেলায় আট বিলিয়ন ডলার বরাদ্দকে যথেষ্ট বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শুক্রবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে দুই শতাধিত আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১২ জন।
ইতোমধ্যে করোনার কারণে দেশটির শেয়ার বাজারে পতনের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া-ফ্লোরিডায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। অধিকাংশ প্রদেশেই ট্রাভেল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
চীনের বাইরে বিশ্বজুড়ে ১৭ গুণ বেশি গতিতে কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) ছড়াচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। একই সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস অ্যাডানম গেব্রেয়েসুস বলেন,‘যেভাবেই হোক করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে হবে। এটা আত্মসমর্পণের সময় নয়। কোনও অজুহাতের সময় নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।’
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মিছিল থামেছেই না। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে চীনে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ৪২ জন। আর বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৮৫ জনে।
গতকাল চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে আরও ১৪৩ জনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল এ সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও গবেষকদের হিসাবে, চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে এসেছে, বিশেষ করে ভাইরাসটির উৎস হুবেই প্রদেশের বাইরে।
বৃহস্পতিবার হুবেইতে মারা গেছেন আরও ২৯ জন, এর মধ্যে উহান শহরেই মৃত্যুর ঘটনা ২৩টি। চীনে এ পর্যন্ত ৮০ হাজার ৫৫২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে।
দেশটিতে করোনা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত এক জ্যেষ্ঠ গবেষক জানিয়েছেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়েই উহান বাদে চীনের অন্য শহরগুলোতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই থেকে ছড়াতে শুরু করে নিউমোনিয়াসদৃশ করোনাভাইরাস। প্রথমদিকে দেশটি স্বীকার না করলেও মৃত্যুর হার বাড়তে বাড়তে ২০০৩ সালে সার্সের ভয়াবহতাও ছাড়িয়ে গেছে। সার্সের কারণে মৃত্যু হয়েছিল ৭৭ জনের। আর করোনায় এরই মধ্যে তিন হাজার ৩৮৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চীন ছাড়াও আরও বিশ্বের প্রায় ৮৬টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
