সৌদি আরবে অজ্ঞাত কারণে বাদশা সালমানের এক ভাই সহ রাজপরিবারের সিনিয়র তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাদশা সালমানের ছোটভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ, সাবেক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ এবং রয়েল কাজিন প্রিন্স নাওয়াফ বিন নায়েফ। এর মধ্যে দু’জন সৌদি আরবে বড় ধরনের প্রভাবশালী। এসব আটকের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ এ রিপোর্টের সত্যতা নিশ্চিত বা প্রত্যাখ্যান কোনোটিই করেনি। এতে আরো বলা হয়, এর আগে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নির্দেশ দেয়ার পর রাজধানী রিয়াদে রিজ কার্লটন হোটেলে সৌদি আরবের রাজপরিবারের অনেক সদস্য, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ২০১৬ সালে নাটকীয়ভাবে তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজের ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন বাদশা সালমান।
তারপর থেকে সৌদি আরবের ক্ষমতার মূলে এই মোহাম্মদ বিন সালমানই রয়েছেন বলে মনে করা হয়। তারপর অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। বিশ্বজুড়ে বহু বিতর্ক হয়েছে তাকে নিয়ে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্টে বলেছে, সর্বশেষ আটকের ঘটনা ঘটে শুক্রবার খুব সকালে। পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার আগে পর্যন্ত সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন মোহাম্মদ বিন নায়েফ। ২০১৭ সালে তাকে গৃহবন্দি করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, রাজপরিবারের এসব সদস্যদের বাড়িতে মুখোশ ও কালো পোশাক পরে গার্ডরা উপস্থিত হয়। তারা তাদের বাড়িঘর তল্লাশি করে।
যদি মার্কিন মিডিয়ার এই খবর সত্যি হয় তাহলে এটা হবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের তার পদ বা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার আরো বড় একটি উদ্যোগ। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আবদুল আজিজের যেসব ছেলে বর্তমানে জীবিত আছেন তার মধ্যে অন্যতম প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ। তাকে ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের বয়ষ্কদের মধ্যে খুব বেশি সম্মান করা হয়। অন্যদিকে সিনিয়র অন্য প্রিন্সদের মধ্যে মোহাম্মদ বিন নায়েফ ছিলেন ক্ষমতার পরবর্তী উত্তরাধিকারী। কিন্তু সেই সুযোগ আসার আগেই এখন থেকে তিন বছর আগে আকস্মিকভাবে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেন বাদশা। এর আগে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাকে সৌদি আরবে আল কায়েদাকে পরাজিত করার কৃতিত্ব দেয়া হয়। এই আল কায়েদা এক সময় সৌদি আরবকে গ্রাস করেছিল।
ওদিকে ভীষণ রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারে ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর ২০১৬ সালে বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যাপক প্রশংসা করা হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তবে বেশ কিছু কেলেঙ্কারি তাকে ঘিরে ধরেছে। তার মধ্যে অন্যতম ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটের ভিতরে ভিন্ন মতাবলম্বী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যাকান্ড। অভিযোগ আছে, এই হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে তার নির্দেশে। তবে সৌদি আরব থেকে তা জোর দিয়ে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
