অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশে আরও ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন । তিনি বলেছেন, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা প্রায় শেষের দিকে। আরও ১০০টি তৈরির জন্য সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।

আজ রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগে আমরা করতে পারিনি। কারণ তখন আমাদের অবকাঠামো ছিল না। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট এগুলো ছিল না। আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে এত দিন অনেক বিনিয়োগ করেছি। এটা ফিজিক্যাল ও ননফিজিক্যাল। এখন আমরা দ্রুতই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো তৈরি করতে পারব।’

পণ্যের বহুমুখীকরণে লক্ষ রাখা হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একদিকে দরকার প্রডাক্ট ডাইভারফিকেশন। একই সঙ্গে নতুন নতুন মার্কেট খোঁজা। আমি মনে করি আমাদের আলাদাভাবে এদিকে নজর দিতে হবে।’

এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদাভাবে চিন্তা করার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য আলাদাভাবে সুবিধা রাখব।’

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সগৌরব উপস্থিতি থাকবে বলে মন্তব্য করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা গত তিনটি শিল্পবিপ্লব মিস করেছি। এবার আর মিস করতে চাই না। টেকনোলজিতে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। আমরা শিক্ষা গ্রহণ করব এবং বাস্তবায়ন করব। তিনি বলেন, ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে সবাইকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’

এই সময়ে বিশ^জুড়ে আতঙ্কে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বলেন,  প্রতিটি কেবিনেট মিটিং শেষে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি অবজারভার ও বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

ব্যক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুল রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ডিবিসির প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম,  সহ শীর্ষ ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ‘আমাদের অর্থনীতি ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছে এটা বলতে পারি। কিন্তু এটা ধরে রাখতে পারবো কি না সেটা বিষয়।  আমাদের বিভিন্ন নীতি আছে কিন্তু সেগুলো বাস্তবায় হয় না।

তিনি বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে না তুলে আমাদের পুরোনো প্রতিষ্ঠাকে উন্নয়নে জোর দিতে হবে।’

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জামাল উদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের অর্থনীত হয়ে গেছে ব্যাংক বেজ অর্থনীতি।  এভাবে অর্থনীতি বেশি দূর এগোতে পারবে না। বন্ড ও ক্যাপিটাল মার্কেট দরকার।

সাবেক ডিএসই সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা ভালো না হলে পুঁজিবাজার ভালো হবে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তার সুফল সবাই পাচ্ছে কি না সেটা দেখতে হবে। আমরা দেখছি এ সুফল আন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে না।’

এনআরসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল বলেন, ‘আমাদের এখন রিসার্স কম হচ্ছে। বেশি বেশি রিসার্স করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. আসিকুর রহমান।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031