আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে চিঠিটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়েছে তার পরিবার।

এদিকে সরকারের কাছে মুক্তির আবেদন করা ওই চিঠিতে কি লেখা রয়েছে তা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম। তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে এই চিঠিতে আমরা লিখেছি যে, বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা পরিবারের সদস্যরা তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইছি। সেজন্য তার মুক্তি প্রয়োজন। তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য মানবিক কারণে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। তিনি আরো জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে। সে বিষয়টি তারা চিঠিতে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

দুইদিন আগেই আমরা পরিবারের সদস্যরা যখন হাসপাতালে তাকে দেখলাম তিনি উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না। তার বাঁ হাত আগেই বেঁকে গেছে। ডান হাতও বেঁকে গেছে প্রায়। তার হাঁটুতে এবং কোমরে ব্যথা। খেতে পারছেন না। অবস্থা খারাপ থেকে খারাপ হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ড সঠিক তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন দিতে পারছে না। এ বিষয়গুলো আমরা তুলে চিঠিতে ধরেছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নয় মাস ধরে চিকিৎসাধীন থাকা খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড কিছুদিন আগে আদালতে সর্বশেষ যে রিপোর্ট দিয়েছিল, সেটি এবং আগের দুটি প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব তথ্য এসেছে, সেগুলোও পরিবারের সদস্যদের চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, তার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবরে পাঠানো বিএনপি নেত্রীর পরিবারের দুটি চিঠিই নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় এখন আইনগত দিক খতিয়ে দেখছে।

আইনমন্ত্রী আরো জানান, তারা চিঠিতে লিখেছেন, সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় কারাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মাননীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের নির্বাহী আদেশে লন্ডনের আধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দানের আবেদন। এটি চিঠির মর্মকথা।

অন্যদিকে কি কারণে এ চিঠি পাঠিয়েছেন তা জানতে চাইলে সেলিমা ইসলাম বলেন, যেহেতু জামিন হচ্ছে না। কিন্তু তারা পরিবারের সদস্যরা এখন খালেদা জিয়ার জীবন বাঁচানোর বিষয়কে মুল বিষয় হিসেবে দেখছেন। সেকারণে তারা এখন সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট সব আদালতে কয়েকবার চেষ্টা করা হলো, কিন্তু জামিন হয় নাই। সেজন্য মানবিক কারণে আমরা বিদেশে চিকিৎসা করানোর জন্য মুক্তি চেয়ে চিঠি লিখেছি। আমরা প্যারোলে কথা লিখি নাই। এখন উনারা যেভাবে দিতে চায়। কারণ উনার অবস্থা এত খারাপ যে যে কোনো সময় যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031