প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্য ঘরে মজুত করে বাজারে সংকট সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন । দেশে খাদ্যপণ্যের যথেষ্ট মজুত থাকার পাশাপাশি কমপক্ষে এক বছর বিদেশ থেকে আমদানির সামর্থ্যও রয়েছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। গতকাল ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, দেখতে পাচ্ছি কিছু লোক সমানে জিনিসপত্র কিনে মজুত করছেন বা ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। একজন দেখলাম ৩০ কেজি লবণই কিনে ফেলেছেন! এই ৩০ কেজি লবণ দিয়ে উনি কতদিন খাবেন, আমি জানি না। আর সেটা দিয়ে উনি কী করবেন? পিয়াজের একবার দাম বাড়ার কারণে অনেকে প্রচুর পিয়াজ কিনে মজুত করেছিলেন। ফলাফল এই হয়েছিল যে, সেগুলো পঁচে যাওয়াতে ফেলে দিতে হয়েছিল। কাজেই আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে যার যতটুকু প্রয়োজন সেইটুকু আপনারা সংগ্রহ করুন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এইভাবে যদি বাজারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, বাজারে তখন জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। যার টাকা আছে সে তো কিনতে পারছে, কিন্তু যারা সীমিত আয়ের, তাদের পক্ষেতো এতো কেনা সম্ভব না। কাজেই, অন্যকে এভাবে কষ্ট দেয়ার অধিকার কারও নেই। খাদ্য পণ্য মজুদের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনও ১৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শুধু সরকারি গুদামেই আছে। সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন গম আমাদের মজুত আছে। এছাড়াও বেসরকারি আমাদের যে সমস্ত রাইস মিলগুলো আছে, তাদের কাছেও প্রচুর খাদ্য মজুত আছে। তাছাড়া আমাদের ক্ষেতের ফসল আছে। আমাদের যে রিজার্ভ আছে, তাতে অন্তত এক বছরের খাবার ক্রয় করার মতো সামর্থ্য আমাদের আছে। কাজেই সেদিক থেকেও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাজার সহনীয় রাখতে সরকার নজরদারি চালাচ্ছে জানিয়ে সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। চীনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর বাংলাদেশে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়গুলোও তুলে ধরে তিনি বলেন, যখন থেকে চায়নায় এটা দেখা গেল, সাথে সাথেই আমরা কিন্তু সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ৩১৫ জন শিক্ষার্থী ছিল ওখানে। তাদের ফিরিয়ে এনে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে তারপর তাদেরকে আমরা ছেড়েছি। যারা বিদেশ থেকে আসছে আমরা তাদের পরীক্ষা করছি এবং যার ভেতরে এতটুকু সন্দেহ হচ্ছে তাদেরকে কোয়ারান্টিনে থাকার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।
বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান বলেন, তাদের আমরা এটুকু বলবো যে তাদের নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা, স্ত্রী, ভাই-বোন তাদের সকলের নিরাপত্তার জন্য অন্তত ১৪টা দিন কোয়ারেন্টিনে থাকা, তার দ্বারা পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ জনগণ কেউ যেন সংক্রমিত না হয় সে ব্যাপারে তাদের নিজেদেরকেই সতর্ক থাকতে হবে। দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাইরে ঘোরাঘুরি না করে যতদূর সম্ভব নিজের ঘরে থাকুন, আর নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। প্রতিনিয়ত টেলিভিশন ও রেডিওর মাধ্যমে সতর্কতামূলক বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি শুধু এইটুকু আশা করবো যে আমাদের দেশবাসী তারা যেন এটা মেনে চলেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কয়েকটি হাসপাতালও একেবারে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী হলে সেখানে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছি। ডাক্তার নার্সসহ ওখানে যারা কর্মরত তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা করছি। সবচেয়ে দুঃখজনক যে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করব, অনেক কর্মসূচি আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও লোক সমাগম হবে বলে আমরা সেটাও কিন্তু বন্ধ করে দিয়েছি। কাজেই আমরা যে কতটা গুরুত্ব দিয়েছি, সেটা আপনারাই অনুধাবন করতে পারেন। আগামীতেও জনসমাগমের মতো অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার কথা বলেন তিনি। বিশেষ করে ২৬শে মার্চ আমাদের পুষ্পমাল্য অর্পণের কথা আমাদের সাভার স্মৃতিসৌধে। আমি আলোচনা করবো। সেটাও আমাদের স্থগিত করে রাখতে হবে। নিজের মতো করে স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবো। কিন্তু এই লোক সমাগমটা আমাদের বন্ধ করে দিতে হবে। যাতে কোনোভাবে এই সংক্রামক ব্যাধি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728