অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন বা প্রায় অচল হয়ে যাচ্ছে গোটা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে করোনা ভাইরাস বা কভিড ১৯ রোগের দ্রুত বিস্তারের প্রেক্ষিতে সর্বাধিক বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউ ইয়র্ক স্টেট বা অঙ্গরাজ্য স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টা থেকে (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টা) । রাজ্যের গভর্ণর এন্ড্রু কুমো ”স্টে আ্যাট হোম” আদেশে এখানকার বাসিন্দাদের পরামর্শ দিয়েছেন অতিজরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য। কেউ বাইরে বেরিয়ে ”অতিজরুরী প্রয়োজন” এর বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে মোটা অংকের জরিমানা গুনতে হবে। নিউইয়র্কের পার্শ্ববর্তী নিউজার্সিসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি রাজ্যেও আজ থেকে লকডাউন শুরু হচ্ছে। লকডাউনের সময় জরুরি সরকারি সেবা কার্যক্রম এবং ওষুধ ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান ছাড়া বাকি সবকিছু বন্ধ থাকবে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আরও প্রায় ৬ হাজার মানুষ চিহ্নিত হয়েছেন। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিহ্নিত কভিড ১৯ রোগির সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা ৩’শ ছাড়িয়েছে।
মাত্র একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে কভিড ১৯ রোগীর সংখ্যা ছিল কমবেশি ২০ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ২৭৬। এরমধ্যে নিউ ইয়র্ক নিউ ইয়র্ক রাজ্যেই করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি এবং শুধুমাত্র নিউ ইয়র্ক নগরীতেই ৬ হাজার।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার লকডাউনের পাশাপাশি অনেকগুলো অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। নিউ ইয়র্কের সর্ববৃহৎ কনভেনশন কমপ্লেক্স জ্যাকব জ্যাভিট সেন্টারকে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতালে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন গভর্ণর অ্যান্ড্রু কুমো। এছাড়া নিউ ইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ এখানকার বেশ কয়েকটি বড় হোটেলকে হাসপাতালে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরকারি এসব উদ্যোগের সঙ্গে একাত্ম হয়ে প্রতিদিন শতশত ডাক্তার ও নার্স নাম লেখাচ্ছেন করোনা ভাইরাস-বিরোধী যুদ্ধে লড়বার জন্য।
এদিকে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে নতুন করে কারো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সর্বত্র আতংক ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া লকডাউনের কারণে প্রত্যেকেই পর্যাপ্ত খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। যদিও বাজারে কিছু কিছু পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষত, টয়লেট টিস্যু ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট চুড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
