একজন রোগীর শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় সাধারণত পাঁচ দিনের মাথায়। যদিও এই লক্ষণ তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সুপ্ত থাকে। জানিনা আমি নিজেই আক্রান্ত কি না। আপনি কি শিওর?

আপনি মনের অজান্তেই অনেক কাজ করে চলেছেন। যেখান থেকে করোনা ভাইরাস আপনার দেহে প্রবেশ করতে পারে। সেটা কীভাবে করলেন? চলুন নিজেকে দেখি।

আজ সকালে আপনি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসে এসেছেন। আপনি বাসা থেকে খাবার আনেন। বাইরের খাবার আপনার সহ্য হয় না। অফিস শেষ করে রীতিমত বাসায় গেছেন। আপনি অনেক সচেতন একজন মানুষ। সব সময় মাস্ক পরছেন। হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করছেন। তারপরেও কী আপনি চিন্তামুক্ত, জীবাণু আপনার কাছে প্রবেশ করে নি?

এবার দেখি কোথা থেকে আপনার কাছে জীবাণু আসতে পারে। যখন আপনি বাসা থেকে বের হলেন তখন সবশেষে খাবারের ব্যাগটা নিয়ে রুম লক করে দিলেন। সিড়ি দিয়ে নামতে যেয়ে হাত লাগালেন সিড়িতে যেখানে অনেকেই হাত দিয়েছে।

এবার রোডে এসে বাসে উঠলেন। বাসে উঠতে যেয়ে আপনাকে বাসের দরজা ধরতেই হলো এক হাত দিয়ে। এবার আপনি চলন্ত গাড়িতে ভারসাম্য রক্ষার জন্য একে একে সিট ধরে ফাঁকা সিটে বসতে গেলেন। সিট পেলেন বসে পড়লেন। খাবারের ব্যাগটি দুই হাত দিয়ে ধরে আছেন। কখনো এক হাতে ধরছেন। আবার গাড়ির ঝাঁকুনির জন্য সিট ধরে নিজের ভারসাম্য রক্ষা করছেন। আপনার হাত যা যা করেছে। সবার হাত একই কাজ করেছে।

হাত কিন্তু এখানে আপনার থেমে নেই। এর মধ্যে আপনার হাত খাবারের ব্যাগে যা করবার করে নিয়েছে। অফিসে এলেন। সবকিছু রেখে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুলেন। বসলেন কাজে। বেলা বেড়ে চলেছে। পেটে টান পড়েছে। খাবারের টাইম, খেতে হবে। আপনি হাত ভালোমত ধুয়ে খাবারের ব্যাগ থেকে বক্সটি খুলে বের করে খেতে লাগলেন। বা ব্যাগ থেকে বক্সটি বের করে রেখে তারপর হাত ধুয়ে নিলেন। এবার খাবার বক্সটি খুললেন। খাবার বক্সটি ইতোমধ্যে আপনার হাতের ছোঁয়া পেয়ে গেছে।

খাবার প্লেটে নিয়ে খেলেন। জীবাণু যেতে পারে এখান থেকে। আবার খাবার ব্যাগটি অফিস থেকে বাসায় নিয়ে গেলেন আগের নিয়মেই। জীবাণু এখন আপনার ব্যাগ থেকে ঘরে পৌঁছে গেছে। সেখানে এই ব্যাগ থেকে আরো কতভাবেই না জীবাণু ছড়াচ্ছে।

এবার আসি সেই সিঁড়ির কথায়। সেখানেও অনেকের হাতের ছোঁয়া। আপনি বাসে ওঠার আগে ভাবছিলেন নিরাপদ কিন্তু আসলেই কী নিরাপনে আছেন?

ভবনের মূল গেট। যে কেউ খুলে আসছে, যাচ্ছে। আপনিও হাত দিয়ে দরজা খুলে বের হলেন। এখানেও আপনার হাত জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

পেপারওয়ালা পত্রিকা দিয়ে গেছেন বাসার নিচে। কয়েকজন সেটা সেখানে পড়েছেন। এরপর আপনি নিচে এসে পত্রিকা নিয়ে গেলেন। জীবাণু যেতে পারে আপনার সঙ্গে।

এরপর নিজের প্রয়োজনে দুইহাত দিয়ে কতনা কাজই করে চলেছেন। পানির ট্যাপ ছেড়েছেন, বেসিনে এসেছেন, ফ্রিজ খুলেছেন, বইপত্র ধরেছেন, কাপড়চোপড়, থালা-বাসন, মোবাইল, কম্পিউটার, টিভি রিমোর্ট, মোবাইল চার্জার, ওয়াটার ফিল্টার, টেবিল চেয়ার,খাতা-কলম, টাকা-পয়সা ইত্যাদি।

দেখুন তো হাত থেকে জীবাণু এসবে গেছে কিনা। জীবাণু ছড়াচ্ছে কিনা। এরপর আপনি নিজেই এসব ধরছেন বাসায় থেকেই। আপনার হাত যাচ্ছে আপনার অবচেতন মনেই চোখ মুখে। এটা সেটা খাচ্ছেন। আপনি নিজেই নিজের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন।

সুতরাং এখন কী করবেন? হাত গ্লাভস পরলেই কী মুক্তি মিলবে? এতো সহজ নয়। এখনই নিজেকে গৃহবন্দি করুন। অন্তত চৌদ্দ দিন। নিজের হাতকে শত্রু ভাবুন। ভাবুন আপনার হাতে করোনাভাইরাস। আপনিই নিয়ে এসেছেন। আপনার হাতকে আটকান। নিরাপদ থাকবেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031