করোনাভাইরাসের প্রকোপ চক্রবৃদ্ধি হারের চেয়েও বেশি বাড়ে। তার চেয়েও দ্রুত কমিয়ে আনা যায় এই সংক্রমনের হার। কীভাবে দেখুন নিচে-

সহজে বোঝার জন্য একটি হাইপোথেটিক্যাল দেশ ভাবা যাক। যেখানে ২০ কোটি লোক বাস করে। সেখানে একেকজন মানুষ গড়ে কোনো না কোনোভাবে তিনজন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসে। হঠাৎ একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, তাহলে সংক্রামণের সংখ্যা ১ থেকে বেড়ে পুরো পপুলেশনে ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগবে ১৫ দিন।

অনেকটা এভাবে:

১৩

৪৮

১৯২

৭৬৮

৩০৭২

১২২৮৮

৪৯১৫২

১৯৬৬০৮

৭৮৬৪৩২

৩১৪৫৭২৮

১২৫৮২৯১২

৫০৩৩১৬৪৮

২০১৩২৬৫৯২

এখন সে দেশের মানুষ যদি চলাচলকে সীমাবদ্ধ করে প্রতিদিন দুইজন নতুন মানুষে নামিয়ে আনতে পারে তাহলে ওই একই ১৫ দিন শেষে সংক্রামণের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১৮৮৬৪৬ ।

তারা যদি আরও সীমাবদ্ধ করে ১০ দিনে ৫ জনে নামিয়ে আনে তাহলে ১৫ দিন শেষ সংক্রামিত জনসংখ্যা হবে ২২৩৫১৭ । যদি তারা চলাচলকে আরও সীমাবদ্ধ করে ১০ দিনে ১ জন নতুন মানুষের সংস্পর্শ নিশ্চিত করে তাহলে ১৫ দিন শেষে আক্রান্তের সংখ্যা হবে ১৬৯৯২ ।

এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে চলাচলের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা কেন এত জরুরি। এরপর থেকে দয়া করে আর ৩ শতাংশ বিষয়টিকে খাটো করে দেখবেন না। ১০০ জনে ৩ জন হয়তো অনেক ছোট বিষয়। কিন্তু ১০০ কোটির ৩ শতাংশ কিন্তু ৩ কোটি। এটা খেয়াল রাখতে হবে।

এপিডেমিওলজি মোতাবেক একটি সংক্রামক ব্যাধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কেইস আইডেনটিফাই করে কন্টাকট ট্রেসিং করে সবাইকে কোয়ারেন্টাইন করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের করণীয় কী? আমাদের করণীয় হচ্ছে যতটা সম্ভব বাসায় থাকা। যাদের বাসায় থাকা সম্ভব নয়। যারা সুপার স্প্রেডার, যেমন ডাক্তার, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রতিটি কমিউনিটিতে একটি দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি রাখা যারা এই কন্টাকট ট্রেসিং করতে পারবেন। (কারণ, আমাদের পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ নেই) এবং হাত না ধুয়ে চোখে, নাকে, মুখে হাত দেওয়া যাবে না। বাসার কাজের বুয়াকে এক মাসের জন্য বৈতনিক ছুটি দিয়ে দিন। দুই সপ্তাহ নিজের কাজ নিজেই করেন। নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আইসোলেট করে ফেলুন। আমরা সবাই মিলে এক মাস কষ্ট করলে এই অবস্থার ব্যাপকতা ঘটবে না। এখন যদি এক মাসের জন্য আমরা নিজেদের বন্ধ না করে ফেলি তাহলে একমাত্র আল্লাহ জানেন কতদিনের জন্য দুর্ভোগ আসছে।

আবারও বলছি করোনাকে পার্সেন্টেজ দিয়ে বিবেচনা করবেন না। ম্যাগনিচিউড দিয়ে বিবেচনা করুন।

১০০ জনের তিনজন হয়তো অনেক নগণ্য কিন্তু ১৬ কোটির ৩ শতাংশ কিন্তু ৪৮ লাখ। যা পুরো দেশকে মৃত্যুপুরি বানাবে।

সবচেয়ে মারাত্মক বিষয়টি হচ্ছে এর ১০ ভাগের একভাগও যদি ঘটে তাহলে কেবল করোনাভাইরাসের রোগীতে সব হাসপাতাল ভরে যাবে। অন্য কোনও আর্জেন্ট অসুখ, যেমন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এসব অসুখের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া যাবে না তাই বাড়বে এভোয়েডেবল ডেথের সংখ্যা। ফলতঃ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে জ্যামিতিক হারে।

সবাই সতর্ক থাকুন, একা থাকুন।

লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031