ছবি তোলার কারণে সিঁড়ি থেকে নেমে আসে উৎসুক মহিদুল। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিপরীত পাশে ছোট একটি সিঁড়িতে জনা দশেক গাঁদাগাদি করে বসে আছেন, তাদেরই একজন মহিদ। তার পাশের জন খুক খুক করে কাঁশছে, যেন কোনো বিকার নেই তার।

করোনা ভাইরাসের নাম শুনছেন, এমন প্রশ্নে মহিদুল হাসি মারেন, বলেন শুনতাছি চীনে করোনা হইছে, ইতালিও অনেক লোক মরতাছে। আমাদের দেশে এই রোগ অইবো না। এই দেশের মানুষরে করোনা কি করবো। ভাইরাস আরো ভয় পাইবো বাংলাদেশে আসলে।’

কোর্টে কেন এসেছেন জানতে চাইলে মহিদুল বলেন, মাদকের মামলার হাজিরা দিতে। ১৫ পিস দিয়া আমারে এক নেতা ধরিয়ে দিছিলো, পনেরো দিন জেল খাটছি এখন কোর্টে হাজিরা দেই।’

কোনো একজন নেতা আসায় সবাই সেলফি ও গ্রুপ ছবি তোলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পরে মহিদুল অনুরোধ করে তাকে যেন একটা ছবি তুলে দেই। তার মোবাইল হাতে নিয়ে ছবি তুলে দিলাম। কোর্ট চত্বরে সেলফি এমন জটলা চলে দিনভর। কেউ কোর্টে হাজিরা দিয়ে কেউ মামলা থেকে খালাস পেয়ে।

মোবাশ্বের নামে আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় কোর্ট চত্বরে বেশ সচেতনতা অবলম্বন করেই কোর্টে এসেছেন। করোনা আতঙ্কে তার কোর্টে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাশে^র বলেন, বউ মামলা করছে। কী করবো বলেন, হাজিরা না দিলে ওয়ারেন্ট হইয়া যাইবো। আসার তো ইচ্ছা করে না। কারণ কোর্টে মানুষ গিজ গিজ করে। না আইসা কোনো উপায় নাই।

কোর্ট চত্বরে মানুষের জটলা করোনা সংক্রমণে প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এতো দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে ফলে এর থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতা প্রয়োজন। কোর্ট চত্বরের বিষয়টি বিচার বিভাগ নিশ্চয়ই বিবেচনা করবেন।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, জনসমাগম সীমিত করতে না পারলে করোন প্রতিরোধ করা কাঠিন হয়ে যাবে। ইতালির পরিস্থিতি দেখে যে কোনে দেশের সচেতন হওয় উচিত। তাদের সরকার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। আর আমরা সেটা মোকাবেলা করেবা কিভাবে সেটাই বড় বিষয়। তাই প্রতিরোধ করাটা জরুরি।

করোরনা আতঙ্ক নিয়েও প্রতিদিন মহিদুল-মোবাশে^র এর মতো হাজার মানুষ ভিড় জমান কোর্ট চত্বরে। মানুষের মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে করোনা। আর এই পরিস্থিতিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোর্ট চত্বরে হাজির হচ্ছেন মানুষ। ‘জনসমাগম সীমিত’ না করা হলে করোনা প্রতিরোধ করা এই মুহূর্তে অসম্ভভ বলছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930