বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুই বছর দেড় মাসের বেশি সময় পর ছয় মাসের জন্য মুক্তি পেলেন । এমন সময় তিনি মুক্তি পেলেন যখন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দিনদিন। যে কারণে তার মুক্তির সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসার পরই বিএনপি মহাসচিব নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন।

এতদিন পর দলীয় প্রধানের মুক্তির খবরে নেতাকর্মীদের ঢল নামবে এমনটা অনুমান করেই তিনি এমন নির্দেশনা দিয়েছিলেন। করোনা সংক্রামণের হাত থেকে সবাই নিরাপদে থাকতে পারেন সেজন্যই নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, যখন চেয়ারপারসন মুক্তি পাবেন তখন যাতে কেউ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল, তার গুলশানের বাসার সামনে জড়ো হবেন না।

কিন্তু বুধবার বিকালে যখন তার মুক্তি মিলল তখন নির্দেশনা মানা তো দূরের কথা পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করেও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সামনে থেকে সরাতে পারেননি ‘আবেগী’ নেতাকর্মীদের। শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর নেতাকর্মীদের ভিড় দেখে বিরক্তও হন বিএনপি মহাসচিব। এসময় তিনি একাধিকবার সবাইকে হাসপাতাল অঙ্গন ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কান দেয়নি নেতাকর্মীরা।

শুধু তাই নয়, বিকাল সোয়া চারটার দিকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া । কিন্তু নেতাকর্মীদের স্লোগান ও ভিড়ের কারণে পুরো এলাকা সমাবেশস্থলের মতো হয়ে যায়। এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার গাড়ি বের করে দিতে পুলিশ বাধ্য হয়ে মৃদু লাঠিচার্জ করে।

অনেকেই করোনা এবং অসুস্থ খালেদার মুক্তির সময় নেতকর্মীদের এমন আচরণের সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তারা বলছেন, দলীয় প্রধানের মুক্তির বিষয়টি আবেগের হলেও বৃহত্তর স্বার্থে তাদের এমন শোডাউন করা উচিত হয়নি। এতে করে সবার মধ্যেই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শুধু তাই নয়, দলের নেতারাও এ নিয়ে নাখোশ হয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, যারা খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন না তারাই নির্দেশনা না মেনে হাসপাতাল এবং গুলশনে জড়ো হয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সড়কে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা হাসপাতাল থেকে গুলশান পর্যন্ত যান। যে কারণে ঢাকার ফাঁকা রাস্তায়ও খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় পৌঁছাতে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

নেতাকর্মীদের এমন উপস্থিতি ছিল খালেদার গুলশানের বাসার সামনেও। তবে সেখানকার উপস্থিতি হাসপাতাল এলাকার মতো ছিল না। সেখানে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের থেকে নেতাদের বেশি দেখা গেছে।

বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান সরোয়ার, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, শামা ওবায়েদ, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, যুবদলের সাইফুল ইসলাম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ আরো অনেক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকে দেখা গেছে।

এসব নেতার কাছে করোনার ঝুঁকির মধ্যেও এত উপস্থিতির বিষয় নিয়ে কথা বললে তারা কৌশলী উত্তর দেন। গুলশানে উপস্থিত হওয়া বেশিরভাগই আবেগের কারণে ঘরে থাকতে পারেননি বলে জবাব দেন।

যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ঢাকা টাইমসকে বলেন, সাংগঠনিকভাবে নিষেধ করেছি যাতে এখানে কেউ না আসে। সে অনুযায়ী অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। তারপরও যারা এসেছেন তারা আসলে আবেগের জায়গা থেকে এসেছেন।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা যে যার মতো সচেতন আছি। কিন্তু বুঝতে হবে নেত্রী যাকে আমরা মায়ের মতো মনে করি তিনি মুক্তি পেয়েছেন যে কারণে সবাই আসছেন। গাড়ি বন্ধ তবুও অনেকে আসছেন। তারা হয়তো দেখতে পারবেন না কিন্তু এসে জানলেন নেত্রী বাসায় পৌঁছেছেন। আসলে আবেগ ধরে রাখা কষ্টকর।’

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা এসেছি খুব বেশি নয় অল্প কয়েকজন। আশা করি নেত্রী আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিএসএফের সদস্যরা লোকজনকে সরিয়ে দিবেন। তার নিরাপত্তা বিধান করবেন।’

অন্যদিকে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসার মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ঢাকা উত্তরের মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল কথা বলার সময় তার আশপাশে অনেকেই দাঁড়ানো ছিলেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে এসেছি যাতে নেতাকর্মীরা চলে যায়। হাসপাতালেও আমাদের লোকজন নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়েছিল।’

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031