aapm_118921

ঢাকা : রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে গুলশানের আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের।

রাষ্ট্রীয় শোকের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে নিহতদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শোকার্ত মানুষ। স্টেডিয়ামে গুলশানে হামলায় নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ আনা হয়। স্টেডিয়ামের পশ্চিম প্রান্তে করা মঞ্চে রাখা হয় তাদের লাশ।

তিন বাংলাদেশির মধ্যে ইশরাত আখন্দ এবং ফারাজ হোসেনের কফিন ঢাকা ছিল বাংলাদেশের পতাকা দিয়ে। আর দুই দেশের নাগরিক হওয়ায় অবিন্তা কবীরের কফিন ঢাকা ছিল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দিয়ে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনজনের পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। সেনাবাহিনীর একজন সদস্য এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাতে ডেথ সার্টিফিকেট হস্তান্তর করেন।

নিহত ১৭ বিদেশির কফিন স্টেডিয়ামে রাখা না হলেও মঞ্চের পেছনে ভারত, ইতালি, বাংলাদেশ, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় তাদের সবাইকে স্মরণ করা হয়।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভুটানে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের পক্ষ থেকে নিহতদের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামে শ্রদ্ধা নিবেদন মঞ্চে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমবেদনা জানান। শ্রদ্ধা জানানোর পর সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি আর্মি স্টেডিয়াম থেকে চলে যান।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানোর পর বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতরা। আরও শ্রদ্ধা জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্য, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, এফবিসিসিআই, নিহত পুলিশের পরিবারের সদস্য এবং ঢাকার দুই মেয়র। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

গত শুক্রবার রাতে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি ২০ জনকে গলা কেটে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৩ মিনিটের কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ১৩ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি। নিহত সাত জাপানির মধ্যে ছয়জন মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষা কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

সন্ত্রাসী হামলার পর গত শনিবার সন্ধ্যায় জাতীর উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ ও ৪ জুলাই দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন।

রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার সকাল থেকেই সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ছিল। জনগণ কালোব্যাজ ধারণ করেছে। মসজিদে মোনাজাত ও মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে শোক পালন করা হচ্ছে।

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930