ওষুধের দোকান করোনাভাইরাস ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে জরুরি পরিষেবা হিসেবে খোলা থাকছে । তবে সড়কে জনসমাগম না থাকায় ডিসপেনসারিতে বিচ্ছিন্ন ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। তাই অত্যন্ত জরুরি পরিষেবার আওতায় থাকা ওষুধের দোকানিদের নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি দোকানপাট, শপিংমল বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান যেমন- হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে করোনার কারণে রাস্তায় জনসমাগম না থাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর কলেজ গেট এলাকায় ওষুধের দোকানে মাস্ক পড়ে দুইজন প্রবেশ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যেটা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। দেখা যায়, দুইজন অস্ত্রধারী ট্রাক থেকে নেমে ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

এঘটনার পর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তারা বলছে, করোনাভাইরাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অপরাধের প্রভৃতিগত পরিবর্তন এসেছে। এই ধরণের অপরাধ বন্ধে তারা সজাগ রয়েছেন। এরই মধ্যে ওষুধের দোকানকেন্দ্রিক পুলিশের মুভমেন্ট বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মীর সোহেল রানা বলেন, ‘কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আমরা ছিনতাইয়ের ঘটনা খেয়াল করেছি। এই বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে। ইতিমধ্যে ওষুধের দোকান কেন্দিক পুলিশের মুভমেন্ট বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মোবাইল পেট্রোল টিমগুলো দোকানকেন্দ্রিক ডিউটি পরিচালনা করছে।’

‘শহরগুলোতে সিসিটিভি মনিটরিং রয়েছে, যার সহায়তাও আমরা নিচ্ছি। এছাড়া ওষুধ ব্যবসায়ী এবং যেসব দোকান খোলা রয়েছে তাদেরকেও পুলিশের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

ওষুধের দোকানিদের কিছুটা সতর্ক হতে বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। বলেন, ‘যাদের ক্ষেত্রে সম্ভব, তারা যেন লেনদেন ও দ্রব্য সামগ্রী দেওয়া নেওয়ার বিষয়টা সেফটি ভাবে করেন। বিশেষ করে যাদের শার্টারের ভিতরেও আলাদা গ্রিল রয়েছে, তারা যেন গ্রিলের ভিতর থেকে লেনদেন করেন। খুব জরুরি না হলে ক্রেতাকে দোকানের ভিতরে প্রবেশের সুযোগ না দেন।’

এই ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে এআইজি সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা সবোচ্চ চেষ্টা করছি এই ধরণের অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। যেখানেই আমরা খবর পাচ্ছি বা টের পাচ্ছি তাৎক্ষণিক পুলিশের টিম ছুটে যাচ্ছে। তাছাড়া অপরাধীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।’

গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। শুক্রবারও ছুটি ১১ দিন বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওষুধের দোকানসহ কিছুকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমতি রয়েছে, বিশেষ করে সন্ধ্যার পরেও। তবে কাঁচাবাজার, মুদি দোকান দুপুর ২টার পর এবং সুপারসপগুলো সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭ জন। এছাড়া আরও ৯৪ জনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর ফলে দেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ৪২৪ জন হয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031