ঘরে থেকে ঘটনাস্থলে থাকার তথ্য দিয়েছেন তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। ফেঁসে যাচ্ছেন সরাইল থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ওসি সাহাদাত হোসেন টিটু। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে তার এই মিথ্যাচারের বিষয়টি। মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আনসারীর নামাজে জানাজায় লাখো লোক সমাগমের ঘটনায় প্রত্যাহার হয়েছেন ওসি সাহাদাত। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ  হেডকোয়ার্টার্স থেকে  গঠিত ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। যার প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ইকবাল হোসেন। জেলা পুলিশের একটি সুত্র জানায়- জানাজায় দলে দলে মানুষ আসতে শুরু করলে ওসি সাহাদাতকে ফোন দেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসপি’র করা ফোনের উত্তরে ওসি ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং কোন সমস্যা নেই বলে জানান।

এর কিছু সময় আগে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে তাকে ফোন করা হয়। কিন্তু ওই ফোন রিসিভ করেননি তিনি। পরে জানিয়েছেন তাড়াহুড়োয় ফোন ঘরে রেখে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরক্ষনেই এসপি’র ফোন রিসিভ করেন। পুলিশ৷ সুত্র বলছে, দুটি ফোন কলের সময় ঘরেই বসেছিলেন তিনি। এসপি’র ফোন রিসিভ করেছেন। বিশেষ শাখারটি করেননি। বিষয়টি ধরা পড়েছে ওইদিন ওইসময়ে তার মোবাইল লোকেশন নির্ণয়ে। সরাইলের বেড়তলায় ১৮ই এপ্রিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারীর নামাজে জানাযায় প্রায় লাখো মানুষ অংশ গ্রহণ করে। ওইদিন রাতেই ওসি সাহাদাত হোসেন টিটুকে প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন প্রত্যাহার হন সরাইল সার্কেলের এএসপি মাসুদ রানা ও ওসি-তদন্ত নূরুল হক। এবিষয়ে ওসি সাহাদত হোসেন টিটো মানবজমিনকে বলেছিলেন- এতো লোক কোত্থেকে আসবে। এটা কি শোলাকিয়ার মাঠ। মাইকে সবাইকে দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছিলো এবং সেভাবেই নামাজ আদায় হয়েছে বলে দাবী করেন ওসি। আর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম মোসা একবারেই অজনার মধ্যে ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সেখানে ওসি সাহেব ছিলেন। তিনিই এটি ভালো বলতে পারবেন। আমি পরে এটি জানতে পেরেছি। এখানে লোক একটু বেশী হয়েছে। তবে এতো লোক হওয়ার কথা না। এটি আমার ধারণা। মানুষ যেটা বলছে বেশী-বেশী বলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন ছিলো। তারা স্বশরীরে ছিলেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন।
এদিকে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানে আরো সময় লাগার কথা জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা । তদন্তে ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করার সময় তদন্ত কমিটির প্রধান মো: ইকবাল হোসেন ২৩ শে এপ্রিল তদন্ত  রিপোর্ট জমা দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সাংবাদিকদের। তবে বৃহস্পতিবার রিপোর্ট প্রদানে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির একজন সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন। তবে এনিয়ে আর কিছু জানাতে অপারতা প্রকাশ করেন তিনি। জেলা লকডাউন অবস্থাতেই এই নামাজে জানাজাটি হয়। এনিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে।  জানাজার পর সরাইল, আশুগঞ্জ ও সদর উপজেলার ৮ গ্রামের ৩৫/৪০ হাজার মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। যদিও জানাজায় ট্রাকে, পিকআপে ও মাইক্রোতে করে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে লোক আসে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031