করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধার কাছে যাওয়ার মতো নারী স্বাস্থ্য কর্মীও ছিলনা স্ট্রেচার ধরার লোক ছিল না । উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফোন করে দু’জন স্বাস্থ্য পরিদর্শককে ঘটনাস্থলে আনলেও স্ট্রেচার ধরার মতো লোকের ঘাটতি ছিলো তখনও! পিপিই পরিহিত উপস্থিত অনেকেই করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধার কছে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছিলেন। বৃদ্ধাকে ঘর থেকে এ্যম্বুলেন্সে তুলতে স্থানীয়দের পিপিই দিয়েও সহায়তার সাড়া পাননি তিনি। ফলে নানা সমন্বয়হীনতায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনা আক্রান্ত নিজ ঘরে অচেতন হয়ে থাকা এক বৃদ্ধাকে তার বাড়ি থেকে এ্ম্বুলেন্সে উঠাতেই সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘন্টা! তাও আবার উল্টো শোয়ানো অবস্থায়। এর আগে ওই বৃদ্ধার করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সময় নিয়েছে ১২ ঘন্টার অধিক। মঙ্গলবার (২৮ শে এপ্রিল) সরজমিন করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধার এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র পরিলক্ষিত হয়।  
এভাবেই সোমবার রাতে উপজেলায় দু’জন করোনা আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৮শে এপ্রিল) দুপুর ১ টা দিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই বৃদ্ধাকে অবচেতন অবস্থায় ও অপর করোনা আক্রান্ত যুবককে ঢাকার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করতে সমর্থ হয় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। লকডাউন করা হয় করোনা আক্রান্ত দু’জনের আশপাশের ও তাদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১১০ টি বাড়ি।

তবে, সোমবার বিকেল থেকে ঘরের ভেতর অবচেতন অবস্থায় থাকা করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধাকে এ্ম্বুলেন্সে উঠাতে এতটা বিলম্ব হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের সেবায় চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  মো. আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয়রা।
ভাওড়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, গত রবিবার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা যখন তার নমুনা সংগ্রহ আসে তখন তাদের সামনেই ওই বৃদ্ধা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত ছিলো ওইসময়ই বৃদ্ধাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তা করলে হয়তো আজকে তার অবস্থা এতটা মুমূর্ষু হতো না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, “বৃদ্ধার এই মুমূর্ষু অবস্থার কথা আমাদের কেউ অবগত করেনি।” এছাড়া নমুনা সংগ্রহ করা স্বাস্থ্য কর্মীদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ নাকচ করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, করোনা মোকাবেলায় প্রশাসন সর্বাত্মক ভাবে প্রস্তুত আছে। করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা প্রশাসনের নজরে না আসার ব্যাপারে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীদের দায়ী করেন তিনি। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য কর্মীদের দায়িত্বের ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করা হবে বলেও জানান তিনি।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031