কলেজছাত্রীকে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে কুমিল্লায় মেস ভাড়ার জন্য ছয় । গত মঙ্গলবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ডিগ্রি শাখার পাশের ধর্মপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চার ঘণ্টার বেশি সময় তালাবদ্ধ থাকার পর ওই ছাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে করলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে কারণে মার্চের মাঝামাঝিতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে বাড়ি চলে যান। এসব শিক্ষার্থীর বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তারা টিউশন, গৃহশিক্ষক ও খণ্ডকালীন চাকরি করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে টিউশন, খণ্ডকালীন চাকরি না থাকায় একত্রে তিন চার মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

ভিক্টোরিয়া কলেজ সমাজকর্ম বিভাগের (তালাবদ্ধ থাকা শিক্ষার্থী) মেরিন তানজিনা টুম্পা অভিযোগ করে বলেন, ধর্মপুরের জাহানারা মঞ্জিলে আমরা ছয়জন ছাত্রী থাকি। সবাই ভিক্টোরিয়াতে অনার্স ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় তিন মাস মেসে ছিলাম না। আমাদের টিউশনিও বন্ধ। মঙ্গলবার ছয়জন মেসে যাই। বাসায় প্রবেশের পর মূল গেটে (বাড়ির মালিক) আন্টি তালা লাগিয়ে দেন। আমরা বলেছি, যেহেতু মেসে ছিলাম না, টিউশনও নেই । ৫০% ভাড়া দেব। আন্টি বলেছেন পুরো টাকা দিতে হবে।

তখন বলেছি, এখন তো টাকা সাথে নেই, মালামাল থাকুক। আমরা মে মাস পর্যন্ত টাকা দিয়ে আসবাবপত্র নিয়ে যাব। তিনি (বাড়ির মালিক) বললেন, আজ যেহেতু মাসের ২ তারিখ, এ (জুন) মাসের ভাড়াও দিতে হবে। তিনি গেটে তালা লাগিয়ে আমাদের চার ঘণ্টার মতো আটকিয়ে রাখেন। আমরা বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করি। পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।

ধর্মপুর জাহানারা মঞ্জিলের মালিক জানাহারা বেগম জানান, তাদের কাছে আমি তিন-চার মাসের ভাড়া পাই। পূর্বে এমন করে বহু ভাড়াটিয়া টাকা না দিয়ে চলে গেছে। তারা আমার মেয়ের মতো। আন্তরিকতার সাথে তাদের বলেছি, ভাড়া না দিলে তালা খুলব না। মেয়েরা আমার বাড়িতে পুলিশ কল দিয়ে এনেছে। ভাড়ার টাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ করি। সরকার যদি (গ্যাস, কারেন্ট, পানি) এসব বিল মওকুফ করত, আমিও তাদের মওকুফ করতে পারতাম।

শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকারী, কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানা সাব-ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে টিমসহ ঘটনাস্থলে যাই। বাসায় তালা দেওয়া ছিল। মালিককে ডেকে তালা খোলা হয়। এ বিষয়ে বাসার মালিক ও ভাড়াটিয়া ছাত্রী উভয়ের সাথে কথা হয়। মালিক পক্ষ চায় শতভাগ ভাড়া, আর ছাত্রীরা চায় করোনাকালে ৫০% টাকা দেওয়ার জন্য। প্রাথমিকভাবে বিষয়টির সমাধান করে তাদের বাসা থেকে বের করে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

যেকোন সমস্যায় উভয় পক্ষকে থানার সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজের সৃজনশীল সংগঠন ক্যাম্পাস বার্তা সম্পাদক মাহদী হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাস বার্তার উদ্যোগে মেস ভাড়া মওকুফের জন্য মে মাসের ১৭ তারিখে কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেছি। আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে, মে মাসের ৩০ তারিখ অধ্যক্ষ স্যার জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ির মালিক ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ৫০-৬০% মওকুফ করা হলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাচ্ছে না।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ দুঃখজনক। গত কলেজের সৃজনশীল সংগঠন ক্যাম্পাস বার্তার পক্ষ থেকে মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়ে আবেদন করে। এরপরই তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে, মেস ভাড়া মওকুফ করতে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র দিয়েছি। পৃথিবীব্যাপী মানুষের এই ক্রান্তিলগ্নে মানবিক ও উদার হয়ে অচিরেই আমার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়াবেন। এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031