গত এপ্রিলে বৃটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডে নিউক্যাসলের ৮০ শতাংশ মালিকানা পাবে সৌদি পাবলিক ইভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)। যা মূলত পরিচালনা করেন প্রিন্স সালমান। গুঞ্জন রয়েছে, ইংলিশ ফুটবল ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড কিনতে যাচ্ছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)।কিন্তু নানা কারণে চুক্তিটা পাকাপোক্ত হয়নি। এসবের ভেতরই যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিভি কোম্পানি থেকে আরো লোভনীয় প্রস্তাব পেল নিউক্যাসল ইউনাইটেড।
স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, ইউএস সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ক্লেয়ার টিভির সিইও হেনরি মাউরিস ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছেন নিউক্যাসলকে। ২০২০-২১ মৌসুমের আগেই ‘ম্যাগপাই’ খ্যাত ক্লাবটির পূর্ণ মালিকানা বুঝে নিতে পারে ২০১৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রতিষ্ঠিত টিভি কোম্পানিটি। যাদের বর্তমান ভিউয়ার ৮৫ মিলিয়নের চেয়েও বেশি।
২০০৭ সালে ১৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে নিউক্যাসলের মালিকানা পান বৃটিশ ধনকুবের মাইক অ্যাশলে। গত ১৩ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখেনি ক্লাবটি।
প্রিমিয়ার লীগ থেকে অবনমিত হয়েছে দু’বার। চাপের মুখে মালিকানা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাইক অ্যাশলে। তার নিউক্যাসল বিক্রির ঘোষণার পরই গত এপ্রিলে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম আলোচনায় আসে। সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, সালমান পাবেন ৮০ শতাংশ মালিকানা, বাকি ২০ শতাংশ থাকবে বৃটিশ ব্যবসায়ী আমান্ডা স্টেভলির কোম্পানি পিসিপি ক্যাপিটাল পার্টনারস এবং সহোদর ডেভিড ও সাইমন রুবেনের অধীনে। তবে প্রিন্স বিন সালমানের সম্পৃক্ত হওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। কেননা প্রিন্স বিন সালমানের বিরুদ্ধে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে প্রতিবাদ জানায় খাশোগির প্রেমিকা হাতিস চেংগিস। এছাড়া সৌদি মালিকানা নিয়ে প্রিমিয়ার লীগ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর আপত্তি জানায় কাতারভিত্তিক ব্রডকাস্টার বিইন স্পোর্টস।
বিইন স্পোর্টসের দীর্ঘদিনের অভিযোগ- তাদের লিংক পাইরেট করে সৌদিতে অবৈধভাবে প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচ দেখাচ্ছে বিআউটকিউ নামের একটি কোম্পানি, যেটি সৌদি সরকারের মদদপুষ্ট। সৌদি আরব অবশ্য বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) তাদের অনুসন্ধানে বিআউটকিউয়ের পাইরেটের ব্যাপারে প্রমাণ পেয়েছে। যেহেতু বিইন স্পোর্টসের সঙ্গে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের বড় অংকের চুক্তি রয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই তাদের স্বার্থ প্রিমিয়ার লীগের ক্লাব মালিক ও পরিচালকদের কাছে গুরুত্ব পাবে। ফলে সৌদি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ব্যাপারে নেতিবাচক মতামত দিতে পারেন তারা। যে কারণেই প্রিন্স বিন সালমানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
