আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনটির হুবহু বাংলা অনুবাদঃ সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন এবং ভারতের প্রতিযোগিতা বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার করেছে সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর বাংলাদেশ সফরের পর বাংলাদেশ এবং চীন নিজেদের কৌশলগত অংশীদারে পরিণত করেছে। চীন বাংলাদেশকে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা এবং ঋণসহায়তার অঙ্গীকার করে। যেখানে ভারত ৮ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব দেয়।

চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশে ১০০’র বেশী চীনা কোম্পানি কাজ করছে, অন্য কোন দেশ এই অবস্থায় নেই। অন্য সবারই এর চেয়ে কম। নিকট ভবিষ্যতে আমরা আরো অনেক বেশি চীনা কোম্পানিকে এখানে দেখবো।

এর অন্যরকম চিত্র দেখা যায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে৷ ডিসেম্বরে ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অনুমোদনের পর থেকেই ঝামেলার শুরু। সমালোচকদের মতে, এতে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে এবং এ নিয়ে প্রতিরোধ সহিংসতায় গড়ায়। নদীর পানিবন্টন, ট্যারিফ চালু, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বারা অনেক বাংলাদেশী বেসামারিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়েও দুই দেশের মাঝে সমস্যা রয়েছে।

আগস্ট মাসে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এক ঝটিকা সফরে ঢাকা আসেন।

করোনা মহামারির মধ্যে তার এই প্রথম বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য ছিল দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য তিনি যে বিশেষ বার্তা নিয়ে এসেছিলেন, সে বিষয়ে জনসম্মুখে কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নয়াদিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্ক নষ্ট করতে চীন তার অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে ভারতীয় সীমান্তের নিকট নির্মাণ ও সামরিক প্রজেক্টে অর্থ বরাদ্দ করতে পারে, তা নিয়ে যে ভারত উদ্বিগ্ন শ্রিংলার এই সফর সে ইঙ্গিত বহন করে।

দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ভারত বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে উপদেশ দিচ্ছে, যেখানে চীনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প দেশগুলোকে বিপদে ফেলেছে। ভারত চায় না বাংলাদেশ সেরকম কোন ঝামেলায় পড়ুক।

চীন এখন বাংলাদেশের একক বৃহৎ বিদেশী বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র। চীনের বিনিয়োগ এখন শুধু সামরিক সুবিধা বা পাওয়ার প্রজেক্ট এ সীমাবদ্ধ নয়। একটি চীনা কোম্পানি (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত) রাজধানী ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে সর্ববৃহৎ তথাকথিত ‘স্মার্ট সিটি’ বানাচ্ছে যেখানে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে।

কিছু ভারতীয় বিশ্লেষকের বাংলাদেশে চীনের বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।

স্ট্র‍্যাট নিউজ গ্লোবাল সম্পাদক নিতিন গোখলে যেমন বললেন, বাংলাদেশে চীনের এই প্রকল্পগুলো কিভাবে এগুচ্ছে তা দেখতে আমাদের অপেক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আমার মনে হয়, এগুলো এখনো প্রস্তাবনার পর্যায়ে রয়েছে। চীনের বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিপদ সম্পর্কে বাংলাদেশ ভালোই জানে। কারণ চীনের ঋণফাঁদ এমন এক জিনিস যা গোটা বিশ্বের কাছে এখন প্রমাণিত।

বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ সুবিধা উন্নত করতে ভারত বিগত কয়েক মাসে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ এখন চীনের প্রকল্পগুলোকে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজণা প্রশমিত করতেই এমনটা করা হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

কিন্তু অনেক বিশ্লেষক বলছেন, চীনের অব্যাহত আর্থিক সুবিধা প্রদান ইতিমধ্যেই ঢাকার সাথে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক সম্পর্কে ছায়া ফেলেছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031