ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন কুয়েতের প্রবীণ আমির শেখ সাবাহ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ মারা গেছেন। তর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কুয়েতের ফাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত এ আমির। কুয়েতের বার্তা সংস্থা কুনার বরাতে এ খবর দিয়েছে দেশটির প্রথম সারির পত্রিকা আল আরাবিয়া।

আঞ্চলিক বিরোধের মূল মধ্যস্থতাকারী এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরেও একজন শীর্ষস্থানীয় সমাজসেবক হিসাবে পরিচিতি ছিলেন শেখ আল সাবাহ। সৎ ভাই শেখ জাবের আল-সাবাহের মৃত্যুর পরে ২০০৬ সালে আরব উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের আমির হিসেবে অভিষিক্ত হন তিনি।

বেশ অনেকদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন কুয়েতের প্রবীণ এ আমির। গত জুলাইতে তিনি আমেরিকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়। সেসময় আমিরের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ভার পান তারই বৈমাত্রেয় ভাই যুবরাজ শেখ নাওফ আল-আহমদ আল-সাবাহ।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত মিত্র কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল সাবাহকে বিশেষ সামরিক সম্মাননায় ভূষিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অসুস্থতার কারণে আমির অসুস্থ থাকায় সেটি গ্রহণ করেন তার ছেলে শেখ নাসের সাবাহ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ।

এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আব্রাহাম একর্ডসের অধীনে ইসরাইলের সঙ্গে পরবর্তী আরব দেশ হিসেবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে কুয়েত। কিন্তু আমিরের এ মৃত্যুতে চুক্তি হয়ত আপাতত পিছিয়ে যাবে।

সৌদি বাদশাহ কিং সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে হাত ধরে হাঁটছেন কুয়েতি আমির শেখ সাবাহ।

সৌদি বাদশাহ কিং সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে হাত ধরে হাঁটছেন কুয়েতি আমির শেখ সাবাহ।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক ৪০ বছরের অভিজ্ঞতার সাথে শেখ সাবাহ দ্রুত কয়েকটি আঞ্চলিক বিবাদে কুয়েতকে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসাবে স্থাপন করেছিলেন। তাকে আধুনিক কুয়েতের স্থপতি হিসেবে ভাবা হয়। ১৯২৯ সালের ১ জুন কুয়েতে জন্মগ্রহণ করা শেখ সাবাহ ছিলেন শেখ আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহের চতুর্থ পুত্র। আল-মুবারাকিয়া স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পরে তিনি টিউটরের অধীনে পড়াশোনা শেষ করেন। ক্ষমতায় আসার আগে শেখ সাবাহ ১৯৬৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর মাঝে ১৯৯২ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত আবার উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

কুয়েতের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডগলাস সিলিমনের মতে, ইরাক যখন কুয়েত আক্রমণ করে তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে আমির শেখ সাবাহ আমেরিকানদের এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে “কুয়েতের চেহারা” হয়ে উঠে ছিলেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031