র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১) কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছে ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র্যাব-১১ এর সদরে প্রেস ব্রিফিংয়ে কোম্পানী অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আমরা প্রথমে রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড মোড়ে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশী চালিয়ে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন (২৬)কে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করি। আমাদের কাছে তথ্য ছিল বাসযোগে দেলোয়ার ঢাকার দিকে আসছিল। তাই চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন বাসে তল্লাশী চালানো হয়। এরমধ্যে একটি বাসের যাত্রীদের নামিয়ে তল্লাশী করার এক পর্যায়ে দেলোয়ার বাস থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে সন্দেহ হলে তাকে আটক করি। এবং পরে নিশ্চিত হই সে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন মামলার আসামী দেলোয়ার। তার দেহ তল্লাশী করে একটি বিদেশী পিস্তুল, একটি ম্যাগজিন ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার কামরাঙ্গীচর থেকে মামলার প্রধান আসামি নুর হোসেন ওরফে বাদল (২৩)কে গ্রেপ্তার করি।’
খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, ‘এই দেলোয়ার বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। এবং দেলোয়ার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দুটি হত্যা মামলা আছে। র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাদলকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও দেলোয়ারকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘরে ঢুকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার প্রায় এক মাস পর রোববার (৪ অক্টোবর) ফেসবুকে ওই ভিডিও ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে ওই নির্যাতিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে ৯জনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর বেগমগঞ্জ থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
