যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ২২ অক্টোবর যৌথভাবে একটি ভার্চুয়াল দাতা সম্মেলন আয়োজন করছে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও কক্সবাজারের স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য সাহায্যের গুরুত্ব তুলে ধরতে ।

বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর জানায়, সম্মেলনের আয়োজনকারীরা রোহিঙ্গা শরণার্থী, কক্সবাজারের স্থানীয় বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আরও অনুদানের আহ্বান জানাবে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাটি বলছে, চলতি বছরে এই সংকট মোকাবেলায় বড় একটি ঘাটতি রয়ে গেছে। এ বছরে পাওয়া মোট অনুদান প্রয়োজনীয় অর্থের অর্ধেকেরও কম। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় এ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনএইচসিআর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে আলোচনায় বসবে। ২০১৭ সালের আগস্টে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী, কক্সবাজারের স্থানীয় বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সাহায্য বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দেশকে নতুন করে তাগিদ দেয়া হবে।

ইউএনএইচসিআর বলছে, এ বছর জাতিসংঘ প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য চেয়েছিল বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সাহায্যের জন্য। কিন্তু এতদিনে এর অর্ধেকেরও কম সাহায্য পাওয়া গেছে।

ইউএনএইচসিআর মনে করছে, এটি অনেক বড় একটি ঘাটতি, যার সঙ্গে যোগ হয়েছে কোভিড-১৯ মহামারি। ইউএনএইচসিআরের ভাষ্য, ২২ অক্টোবর হতে যাওয়াএই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজ দেশ মিয়ানমারে ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত ও দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের সাহায্যে জরুরি তহবিল সংগ্রহ। সংগৃহীত ফান্ড দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয় জনগণের অতি প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো হবে। এই সম্মেলনে আয়োজকরা আবারও জানিয়ে দিবে এই সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ও অন্যান্য বাস্তুচ্যুত জনগণের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন অথবা তাদের ইচ্ছানুযায়ী অন্য কোনো স্থানান্তর। জাতিসংঘের মহাসচিব এ বছর আহ্বান করেন, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ বিরতি ও সংঘর্ষ থামানোর জন্য, যেন মানবিক সংকটে পীড়িত সকল জনগোষ্ঠীর কাছে নিরাপদে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যায়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আয়োজকেরা সে আহ্বান পুনরায় তুলে ধরবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী ও অন্যান্য বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় এবং আশ্রয়প্রদানকারী স্থানীয় জনগণের উন্নয়নে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই আহ্বানে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে থাকতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত। সর্ববৃহৎ দাতা হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক মানবিক কর্মকাণ্ডের একটি প্রভাবক। আর আমরা আমাদের পুরনো সহযোগী থেকে শুরু করে নতুন দাতা পর্যন্ত সবাইকে আহ্বান করছি এই ইস্যুতে অবদান রাখার জন্য।’

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনি করাব বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ভয়ংকর নৃশংসতার মধ্য দিয়ে গেছে, তারা তাদের ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে যাকল্পনারও অতীত। এই পরিকল্পিত সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা তাদেরকে দায়বদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাব। রোহিঙ্গাদের দুর্দশা কমানোর জন্য আমরা সাহায্য করছি প্রথম সারির অন্যতম দাতা দেশ হয়ে।’

পৃথিবীর সবার উচিত এখন তাদের দুর্দশা লাঘবে এক হয়ে এগিয়ে আসা ও জীবন রক্ষা করা যোগ করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডমিনি করাব।

ইউরোপিয়ান কমিশনার ফর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট জ্যানেন লেনারচিচ বলেন, ‘এই সংকট সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। মানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িত সব সংস্থা ও স্থানীয় জনগণ সত্যিকার অর্থেই এক হয়ে তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই সমস্যার একটি টেকসই সমাধানের জন্য আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করা।’

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরেরে হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করা মানে শুধু তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো নয়। আর সবার মতো শরণার্থীদেরও অধিকার আছে একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের এবং নিরাপদ ও স্থায়ী ভবিষ্যত গড়ার।’

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031