মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বের কাছে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে । তবে মার্কিনিদের শঙ্কা, হয়তো এই অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। বিশ্বে করোনা মহামারির জেরে চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সামনে পড়েছে আমেরিকা। দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডের মত অনুসারে শুধুমাত্র ক্ষমতা ধরে রাখাই নয়, বিশ্বের এই দুই শক্তিধর দেশ করোনাকালের পরও বিশ্বের বাজারে নিজেদের শক্তি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে। সাধারণত কোনও দেশের শক্তি তার জনগণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে। অনেকে মনে করছেন চীনের জিডিপি এবং সামরিক ক্ষমতা মার্কিনিদের হারিয়ে দেবে। তবে মার্কিন উন্নতির পথে এই দুটি যে প্রধান অন্তরায় তা মনে করার কোনও কারণ নেই বলে মনে করছে আরও একটি দল। তাই সেদিক থেকে দেখলে মার্কিনিদের পাল্লা এখনও বেশ ভারী।

বিশ্বের এই দুই শক্তিধর দেশের মধ্যেক কে এগিয়ে, তা নিয়ে তর্কের অবসান নেই। আমেরিকার একটি সংস্থার মতে, চীন তাদের সামরিক শক্তি তৈরি করেছে তাদের দেশের জিডিপির ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু তা বলে তারা আমেরিকানদের টক্কর দিতে পারবে না। আমেরিকা তার নিজের জিডিপির ওপর ভরসা না করেই তাদের সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের শীর্ষে নিয়ে গিয়েছে। এছাড়া আমেরিকার অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা তাদের দেশের নাগরিকদের অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দান করেছে। চীনের তুলনায় এখানেই অনেকটা এগিয়ে রয়েছে আমেরিকা। বিশ্বের অন্য  দেশের তুলনায় মার্কিন ডলারের দাম অনেকটাই বেশি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে চীনের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেটওয়ার্ক শুধু তার নিজের দেশে নয়, বিশ্বের বাজারেও সুদূরপ্রসারি। তাকে সহজে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। মার্কিনিদের আরও একটি বিষয় হল শিক্ষায় তাদের অগ্রগতি। বিশ্বের অন্য  দেশ থেকে মেধাবী পড়ুয়ারা মার্কিন দেশেই তাদের জীবন নির্বাহ করতে পছন্দ করেন। একটি সমীক্ষা থেকে দেখা গিয়েছে, মার্কিন ভোটে সদ্য  পরাজিত হওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বাজারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং খুচরো বাজারের সঙ্গে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য  যথেষ্ট কাজ করেছিলেন। অন্য দিকে চীনের ক্ষেত্রে এমনটা কিন্তু হয়নি। চীনা বাজার গোটা বিশ্বে নিজের আধিপত্য বিস্তার করলেও তা কখনই মার্কিন দেশকে টেক্কা দেয়নি। এটাই প্রধান কারণ, অন্য দেশের তুলনায় মার্কিন অর্থনীতি করোনার প্রভাবে তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। করোনাকালে মার্কিন দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সবথেকে বেশি। মৃতের নিরিখেও তারা সকল দেশকে ছাপিয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতে কি তাদের অর্থনীতির ভিত এতটাই মজবুত যে সেখান থেকে তারা অন্য দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। চীনকে তো তারা হেলায় ফেলে এগিয়ে গিয়েছে। করোনাকালে মার্কিনদের স্কুলগুলিতে শিক্ষাব্যবস্থা অন‍‍্য দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। তাই চীনকে অনেকে সকল দিক থেকে এগিয়ে রাখলেও ওস্তাদের মার যে শেষ রাতে, তা আমেরিকার কাজেই স্পষ্ট।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031