একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন টক-শোতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ইতালির মিলান শহরের ভিটা-স্যালুট সান রাফায়েল  বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভাইরোলজিস্ট বা ভাইরাস বিশেষজ্ঞ রবার্তো বুরিওনিকে । ২০১৬ সালের মে মাস।ভ্যাকসিন বিরোধী এমন দু’জন ব্যক্তির সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বলা হয়েছিল তাকে। এর মধ্যে একজন সাবেক ডিজে রেড রনি এবং অন্যজন একজন অভিনেত্রী, টিভি ব্যক্তিত্ব এলিওনোরা ব্রিগলিয়াদোরি। অনুষ্ঠান চলাকালীন বেশিরভাগ সময়ই উপস্থাপক ওই দু’জনকে দেন। এরপর খুব স্বল্প সময় হাতে থাকতে বলার সুযোগ দেয়া হলো বুরিওনিকে। তিনি বুঝতে পারলেন তার হাতে এত বেশি সময় যে, যুক্তি উপস্থানের জন্য তিনি ওই বিষয় নিয়ে অন্য বক্তাদের সঙ্গে পরিসংখ্যান এবং বৈজ্ঞানিক বিতর্কে জড়াবেন। তাই তিনি তার বার্তাটি অনেকটা সহজভাবে উপস্থাপন করেছিলেন।

বুরিওনির উক্তিটি এমন ছিলো- পৃথিবী গোলাকার, পেট্রোল জ্বলে; ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং কার্যকর। আর বাকি সবই ভয়ঙ্কর মিথ্যা।

সে সময়ের কথা স্মরণ করে বুরিওনি বলেন, ‘আমার ওই মন্তব্য বোমার মতো আঘাত হেনেছিলো’। ওই মন্তব্য করার পর দর্শকরা এ বিষয়ে ইমেল এবং প্রশ্ন পাঠাতে শুরু করে টিভি নেটওয়ার্কটির কাছে। প্রশ্নগুলোর তোলা হয় সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত টিভি নেটওয়ার্ক নিয়ে। বুরিওনি টিকা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে তাকে খোঁচা দিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়- কিভাবে এমন হোস্টিংয়ের মাধ্যমে এ জাতীয় তথ্য সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে ওষুধ সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়? বুরিওনি তার ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, কিভাবে সরকোরের একটি শাখা টিকা নিয়ে মিথ্য প্রচারণা চালাতে পারে, যখন স্বাস্থ্য বিষয়ক এজেন্সি টিকাদানকে অনুমোদন করছেন। বুরিওনির মন্তব্যে কমেন্টে করেন ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ। রেড রনি’র বিরুদ্ধে বুরিওনির ওই উক্তিটি সম্পর্কে রেডিও সাংবাদিক আলেসান্দ্রো মিলান বলেন, গত বছর টিভিতে শোনা ওই ১৩টি শব্দ তার কাছে শোনা সবচেয়ে সুন্দর কথা।

রবার্তো বুরিওনির সম্ভাব্য মিডিয়া ক্যারিয়ার এভাবেই শুরু হয়েছিল। মাত্র কয়েক বছরে তিনি একজন শ্রদ্ধেয় মানুষে পরিণত হয়েছেন। তবে এখন স্বল্প পরিচিত অধ্যাপক থেকে মিডিয়ার বড় ব্যক্তিত্ব এবং বিজ্ঞানের জন্য ইন্টারনেট সচেতন এডভোকেট হয়ে উঠেছেন তিনি। একটি দেশে, যেখানে সরকার সন্দেহজনক ওষুধ অনুমোদন দেয়, সেখানেই তিনি এর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে স্টেম সেল থেরাপির কথা। ইতালির জনসংখ্যা ৬ কোটি। এখানে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বুরিওয়ানির ফেসবুক পেজ অনুসরণ করে। তিনি এবং তার সহকর্মীরা মিলে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য সরবরাহের জন্য একটি ওয়েব পেজ  তৈরি করেছেন। প্রতিমাসে ১ লাখেরও বেশি দর্শক এই সাইটটিতে ঢুঁ মারেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031