বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে করোনাভাইরাস মহামারী ক্রমশঃ বাড়তে বাড়তে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং মানুষ সাবধানতা অবলম্বন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং ভীষণভাবে বিশ্বাস করতে চায় যে এই মহামারী শেষ হয়ে গেছে। আমরা এই বছরটি শেষ করতে চলেছি এমন একটি ভাইরাল মহামারী দিয়ে যা সাড়ে সাত কোটি লোককে আক্রমণ করেছে এবং দশ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার সংবাদদাতা ক্যারল পিয়ারসন তার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে,সারা পৃথিবীর মানুষ এখন ‘মহামারী’ ক্লান্তি” তে ভুগছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ মুখোশ পরতে পরতে ক্লান্ত, সামাজিক দূরত্ব অনুশীলনে ক্লান্ত। স্বাস্থ্যকর্মীরাও মানুষের সেবা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজে নিযুক্ত নার্সদের আন্তর্জাতিক কাউন্সিলের হাওয়ার্ড ক্যাটন বলেন,”নার্সদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যে প্রভাব পড়ছে সে সম্পর্কে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন”। যে কোন মানুষ যখন এই রোগের আক্রমণে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে, তখন অন্য কেউ নয়, এই নার্সরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের পাশে থাকছেন। শ্বাসতন্ত্রের থেরাপিস্ট ন্যান্সি রবার্ট বলেন “কেউ আপনার চোখের সামনে মরে যেতে দেখলে কষ্ট হয়”। মহামারী শুরুর পর থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে রোগিদের সেবা করছেন, মানুষ তাদেরকে এই মহান কাজের জন্য অনেক বাহবা দিয়েছে, এবং কভিডের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের সাধুবাদ জানিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করেছে, কিন্তু পূর্বের সেই আক্রমণ শেষ হতে না হতেই আবার নতুন করে কভিডের আক্রমণ শুরু হয়ে গেছে।
মহামারীটি চলতে থাকায়, লোকেদের নিরাপদ অভ্যাস বজায় রাখতে সমস্যা হচ্ছে।

সময়ের সাথে সাথে আমরা কভিডের হুমকির মোকাবিলা করতে মানসিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছি এবং এই চাপের মাত্রা কমে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা আমাদের নিজেদের সুরক্ষিত করার চেষ্টায় শিথিল হয়ে পড়ছি। তবে এটি মনে রাখা জরুরী যে, আমরা যখন সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরতি নিচ্ছি, কভিড-১৯ কিন্তু কোন বিরতি নিচ্ছে না, এই রোগ বাজারে আগত মানুষ, বিক্ষোভের স্থানে জমায়েত হওয়া মানুষ, সবাইকে সংক্রমিত করছে। কভিড কোন কারণ অথবা যুক্তি মেনে চলে না অথবা এর উপর কোন রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোও সম্ভব হয় না।
সারা বিশ্বের মানুষ যে-বিভিন্ন ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা স্বীকার করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী নেতাদের আহ্বান জানিয়েছে। ইলিনয় রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ ডাক্তার ডাঃ এনগোজি ইজিকা বলেন, “আমি বুঝতে পারি যে মহামারিজনিত ক্লান্তি কীভাবে সবাইকে আঘাত করছে, মানুষ তাদের পরিবারের সদস্যদের না দেখতে পেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের সমস্ত স্বভাবগুলির পরিবর্তন হয়েছে, আমরা কিভাবে কাজ করছি, কিভাবে আনন্দ করছি, সবকিছুই পাল্টে গেছে এবং ভবিষ্যতে কবে যে এই অবস্থার শেষ হবে তাও আমরা জানি না”।
যদিও খুব শীঘ্রই একটি ভ্যাকসিন কার্যকরী হবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই মহামারীর ক্লান্তি দূর করার একমাত্র উপায় হল মনের জোর অথবা ইংরিজিতে যাকে আমরা বলি স্ট্যামিনা, তাই দিয়ে এর মোকাবিলা করা। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক মনোবিজ্ঞানী স্কট বিইয়া বলেন, “আমি এটিকে মানুষের মনের ইচ্ছা শক্তি বলে মনে করি, এই মহামারীর সময় অনেক কাজ অস্বস্তিকর হলেও আমরা সেগুলি করতে আগ্রহী হচ্ছি, কেননা আমরা এগুলিকে মূল্যবান বলে গণ্য করছি এবং তাদের যথাযথ বিবেচনা করছি কারণ এগুলি আমাদের রক্ষা করতে পারে”।
বিশেষজ্ঞরা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাত ধোওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং মানুষ নিজেদের আনন্দ যাতে খুঁজে পাচ্ছেন সে সমস্ত কাজই তাদেরকে করতে বলছেন। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন যে, মানুষ যদি এই মহামারী সমাধানে অংশ নিতে চায়, তবে তাদেরকে আরও বেশি করে সহযোগিতা করতে হবে। এটি অন্যান্য মহামারী শেষ করতে সাহায্য করেছে, সুতরাং এবারেও কাজ করবে। এইভাবে সবাই মিলে কাজ করতে করতে একদিন মহামারীটি শেষ হয়ে যাবে।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031