রোববার দুপুরে কসবা রথতলার মাঠে স্বাস্থ্যসাথীর ক্যাম্প বসেছে । কাতারে কাতারে মানুষ সাপের মতো লাইন এঁকেবেঁকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা। এই জনসমুদ্রের দিকে তাকিয়ে মন্ত্রী জাভেদ খানের ছায়াসঙ্গী, তৃণমূল নেতা রানা বোস বলে উঠলেন, এরপরও ওরা বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাবে? স্বাস্থ্যসাথীতে নাম নথিভুক্ত হলেই পরিবার পিছু স্বাস্থ্যবীমা পাঁচ লাখ টাকা। বাংলার প্রতিটি পরিবারই এই টাকা পাবে। বিজেপি বলছে- নির্বাচনী গিমিক। রাজ্যের স্বাস্থ্য বাজেট অনেক কম। এই টাকার সঙ্কুলান কি করে হবে? ফুঁসে উঠলেন রানা বোস। বললেন- ওরা ভুলে গেছে দিদি এর জন্যে অতিরিক্ত দু’হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করছেন। মানুষ দিদিকে আশীর্বাদ করছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য নির্বাচনের মতো এবারও ভরসা সেই দিদিই। বোধহয় অন্যবারের থেকে একটু বেশি। রানা বোস এর বস দুর্যোগ প্রতিরোধমন্ত্রী জাভেদ খান কি বলছেন? গরিবের যথার্থ মসিহা জাভেদ খান বললেন- দিদি গত পাঁচবছরে উন্নয়নের যে কাজ করেছেন তাতে মানুষের মুখ ফিরিয়ে রাখা কঠিন। বিজেপি যে চেষ্টাই করুক, আমাদের দিদি আছেন, ওদের তা নেই। জাভেদ খানের কথার প্রতিধ্বনি মমতার বিশ্বস্ত সৈনিক পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কথায়। ফিরহাদ বললেন, বিজেপি’র কোনো ঝড় নেই। এটা কিছুটা ওদের সৃষ্টি, কিছুটা কষ্টকল্পনা। ওরাও জানে দুইশ’ চুরানব্বইটি আসনেই ওদের প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই, ওদের অভীষ্ট সিদ্ধ হবে না। বহিরাগতদের দিয়ে বাংলার ভোট জেতা যায় না। শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পরও এ কথা বলবেন? ফিরহাদ বললেন, আলবৎ বলবো। শুভেন্দুকে আজকের শুভেন্দু করলো কে? দিদির আশীর্বাদ ছাড়া আমরা সবাই কিছু নয়। দেখবেন, শুভেন্দু হালে পানি পাবে না। শহরে তৃণমূল যতটা আশাবাদী গ্রামাঞ্চলেও কি তাই? গ্রামের চেহারাটা কি একটু ভিন্ন নয়? মানছেন না পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বলছেন, গ্রামে ভালো কাজের নিরীখেই রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। দু’ টাকা কেজি দরে চাল, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প। গ্রামের মানুষ মমতাকে আশীর্বাদ করছে। বিজেপি’র জায়গা উত্তরভারতে। এই সোনার বাংলায় নয়। এ কথা ঠিক যে, গ্রামেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মসূচি পৌঁছেছে। পাশাপাশি পৌঁছেছে তৃণমূলের নেতাদের এই প্রকল্পগুলো ঘিরে দুর্নীতি। এটাই আকিলিসের গোড়ালির মতো তৃণমূলের একটি দুর্বল জায়গা। বিজেপি গ্রামাঞ্চলে বান মারছে এই আকিলিসের হিল লক্ষ্য করেই। এই বানের মোকাবিলা তৃণমূলকেই করতে হবে। কারণ, এই দুর্বলতার কথা মানেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাও, অবশ্য জনান্তিকে। দু’হাজার ঊনিশের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪০.৭২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এই সত্য কাঁটার মতো লেগে আছে তৃণমূলের গলায়। যদিও তারা বলছেন, লোকসভা আর বিধানসভার ভোটে তফাৎ আছে। তাও সাবধানী পা ফেলছেন তারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পাখির চোখ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
