ডাটাবেজ কারাবন্দিদের জন্য তৈরি হচ্ছে । কারাগারে থাকা বন্দির অপরাধের ধরন, মামলার সংখ্যা ও মামলার বিস্তারিত বর্ণনা, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান, আদালতে হাজিরার তারিখসহ থাকবে বিস্তারিত তথ্য। এছাড়াও ওই বন্দি কতদিন ধরে জেলে আছেন বা এর আগেও জেলে ছিলেন কি-না  তা ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কোনো পুরুষ বা নারী একদিনেরও জন্য হলেও কারাগারে গেলে ওই ডাটাবেজের আওতায় পড়বে। তিনি জামিনে থাকলেও সেটি ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হবে। ডাটাবেজে বন্দির বিষয়ে তথ্য সংরক্ষণ থাকার কারণে বন্দি জামিনে থাকলেও তাকে নিয়মিত মনিটরিং করতে পারবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাতে তিনি নতুন করে কোনো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে। এছাড়াও ডাটাবেজটি জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার, দেশের সকল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

এতে বন্দি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারবে না।  ডাটাবেজে কারাগারের মধ্যে কোন ব্যক্তির কি ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন তা উল্লেখ থাকবে। শিগগিরই তা শেষ হবে বলে জানা গেছে। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তত্ত্বাবধানে র‌্যাব ডাটাবেজটির কাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিএমসি’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান মানবজমিনকে জানান, ‘ডাটাবেজের কাজ দ্রুতই শেষ হবে।’
এনটিএসসি, র‌্যাব ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের জুন থেকে কাশিমপুর  কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এবং গাজীপুর জেলা কারাগারে কারাবন্দিদের ডাটাবেজের কাজ শুরু হয়। এছাড়াও ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব অধিদদপ্তরকে ডিজিটালাইজড করার  অংশ হিসেবে এ কাজ চলছে। ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইমের (ইউএনওডিসি) আর্থিক সহযোগিতায় বায়োমেট্রিক তথ্য সংবলিত এ ডাটাবেজের কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এবং গাজীপুর জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার এবং জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোও উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের এর কিছুদিন পর ডাটাবেজ তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয় এলিট ফোর্স র‌্যাবকে। যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে এনটিএমসি। অবশ্য র‌্যাব ২০১৬ সালেই নিজস্ব উদ্যোগে অপরাধীদের ডাটাবেজ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ‘র‌্যাব-প্রিজন ইনমেট ডাটাবেজ’- নামে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিল। তবে তাদের এ উদ্যোগটি তখন নানা কারণে থমকে গিয়েছিল। ইতিমধ্যে ৪৫টি কারাগারে এ ডাটাবেজের কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুতই করা হবে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031