মিয়ানমারের সামরিক জান্তা অভ্যুত্থানের পর থেকে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে । তার মধ্যে নতুন করে একটি বহুল বিতর্কিত পুরনো আইন পুনঃস্থাপন করেছে তারা। এই আইনের অধীনে পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কোন আত্মীয় বা ভিজিটর রাতে কারো বাড়িতে অবস্থান করলে সে বিষয়ে জানাতে হবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে। যদি কেউ তা না করেন তাহলে তার জরিমানা অথবা জেল হওয়ার বিধান আছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী পরিচালিত অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে শনিবার দিনশেষে এই আইনটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী। তাতে বলা হয়েছে এই আইনটির নাম হলো ‘ওয়ার্ড অর ভিলেজ ট্রাক্ট এডমিনিস্ট্রেশন ল’। উল্লেখ্য, ১লা ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সুচির বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা কেড়ে নেয় সেনাবাহিনী।

সুচি ক্ষমতায় এসে ওই আইনটি বাতিল করেছিলেন। কিন্তু কয়েক দশক ধরে সেনারা যেসব কুখ্যাত আইনের ওপর ভর করে মিয়ানমারকে কব্জা করে রেখেছিল, তারা অভ্যুত্থানের পর তা পুনর্বহাল করলো। অভ্যুত্থানের পর এর প্রতিবাদে দিন দিন বিক্ষোভে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তারা অং সান সুচিকে মুক্তি দিয়ে তার সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছে। প্রথম দিকে বিক্ষোভে কোনো অ্যাকশন না নিলেও আস্তে আস্তে তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণিত করেছে সামরিক জান্তা। বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর তারা জলকামান, কাঁদানে গ্যাস, ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। জনতার ক্ষোভকে দমিয়ে রাখার জন্য শনিবার থেকে সামরিক জান্তা আরো একটি আইন সক্রিয় করেছে। এতদিন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আটক করা বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনো ব্যক্তির বাড়িঘরে তল্লাশি অভিযান থেকে বিরত ছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শনিবার সামরিক জান্তা তাও সক্রিয় করেছে। ফলে এখন নিরাপপত্তা রক্ষাকারীরা যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আটক করতে পারবে। আদালতের অনুমতি না নিয়েই যেকোনো ব্যক্তির বাড়িঘরে তল্লাশি চালাতে পারবে। গণআন্দোলনের নেপথ্যে থাকা সুপরিচিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।
উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত মিয়ানমারে যে বিক্ষোভ হয়েছে অতো বড় বিক্ষোভ এক দশকেরও বেশি সময় হয়নি সেখানে। সামরিক অভুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দেশগুলোও একই রকম পদক্ষেপ নেয়ার কথা বিবেচনা করছে। বিক্ষোভ বিস্তৃত হয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে। সেনাবাহিনী বলেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্যের জন্য উচ্চ পর্যায়ের সাতজন সমালোচকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ওইসব ব্যক্তির কাউকে কোথাও দেখা গেলে বা তাদেরকে কেউ আশ্রয় দিলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু গ্রুপ এসিসট্যান্স এসোসিয়েশন ফর ফরমার পলিটিক্যাল প্রিজনারস বলেছে, ১লা ফেব্রুয়ারির অভুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাতের বেলা তল্লাশি চালিয়েছ। বড় শহরগুলোতে জনতা টহল গ্রুপ গঠন করেছে পুলিশ ও সাধারণ অপরাধীদের থেকে মুক্ত থাকতে।

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930