থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা ও তার নয়জন মন্ত্রী পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব থেকে রক্ষা পেলেন। তার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভরতদের সঙ্গে চারদিনের উত্তপ্ত বিতর্কের পর পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হয়। এর ফল শনিবার ঘোষণা করেন থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট চুয়ান লিকপাই। তিনি বলেন, ভোটে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের ওপর আস্থা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অভিযোগ আছে, অর্থনীতিতে সরকারের অব্যবস্থাপনা রয়েছে, কোভিড-১৯ টিকার বিষয়ে রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা, লঙ্ঘন করা হচ্ছে মানবাধিকার। বৃদ্ধি পাচ্ছে দুর্নীতি। এ অবস্থায় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে দ্বিতীয়বারের মতো অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হল প্রায়ুত চান-ওচার সরকার।

২০১৪ সালে তিনি সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করেন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা এবং মন্ত্রীপরিষদের ৫ সসদ্যের বিরুদ্ধে নি¤œকক্ষে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। তাতেও টিকে যান তারা। সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে সাইবার ইউনিট বসানো, পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার  এবং অন্যান্য অভিযোগে তার সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বর অভিযোগ হলো, তিনি সমাজে বিভক্তি গাঢ় করেছেন। এক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে রাজতন্ত্রকে। এর ফলে তার সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনাকে রুদ্ধ করা হয়েছে।
গত বছর থেকে প্রায়ুত ও তার সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা। তারা অধিক গণতান্ত্রিক হিসেবে সংবিধানের সংশোধন চায়। রাজতন্ত্রকে আরো সংস্কার করার দাবি জানায়, যাতে সেখানে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়। বিরোধী মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির নেতা পিটা লমিজারোয়েনরাত বলেছেন, প্রায়ুতের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো, তিনি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের মূলনীতি বোঝেন না। তিনি রাজতন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন নিজেকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু বিরোধীরা তার সমালোচনা করছে। তার প্রধানমন্ত্রী থাকার আর যোগ্যতা নেই।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031