১৯৯৯ সালে ৩ বছরের এক শিশু সন্তানের সামনে তার মা নূরচান বেগমকে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে র‍্যাব। ওই আসামি ২২ বছর ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারকৃতের নাম- আদম খান ওরফে রফিক (৪৫)। গতকাল মঙ্গলবার আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, ১৯৯৯ সালের ৩১ মে আর্থিক লেনদেনের জেরে গ্রেপ্তার আদম খান নিহত নূরচান বেগমকে (৪০) তিন বছরের শিশু সন্তান তাজউদ্দিনের সামনে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের ছেলে শফিক ১৯৯৯ সালের ১ জুন চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছিল।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার ৭-৮ মাস আগে নিহত নূরচানের স্বামী স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। নুরচানের মৃত্যুতে দুই ছেলে ও এক মেয়ে পিতামাতা হারা হয়ে পরে।

আর্থিক সংকটের কারণে নিকটাত্মীয় (ফুপা) এবং এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় মামলাটি পরিচালনা করা হয়। মামলাটির তদন্ত শেষে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৭ জুলাই ২০০২ তারিখে আদালত আসামি আদম খানকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদম খান ওরফে রফিক দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি র‌্যাব দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব এই আসামিকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

র‍্যাব জানায়, এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৯ এর অভিযানে গতরাতে রাজধানীর বাইপাইল, আশুলিয়া এলাকা থেকে আদম খান ওরফে রফিককে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আদম খান হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আদম খানকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডেরর একবছর পূর্বে আসামি আদম খান নিহত নুরচান বেগমের ছেলের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার নেন। গত ৩১ মে ১৯৯৯ সালে নুরচান পাওনা টাকা চাইলে গ্রেপ্তারকৃত আদম খান টাকা না দেওয়ার তালবাহানা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করে।

এসময় নিহত নুরচান প্রতিবেশী আছমত উল্লাহর কাছে তার তিন বছরের শিশু তাজউদ্দিনকে নিয়ে ঘটনার বিচার চাইতে গেলে আদম খান আবারও আছমত উল্লাহর বসতঘরে এসে নুরচান বেগমকে গালিগালাজ এবং তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে আঘাত করে। এতে নুরচান বেগম ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আদম খান আরও জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাম থেকে পালিয়ে সিলেট শহরে সপ্তাখানিক অবস্থান করে। পরে নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে গোপন রাখার জন্য ঢাকার আশুলিয়ায় চলে আসে। ২০১২ সালের মার্চ মাসে আদম খান মিথ্যা তথ্য দিয়ে, রফিকুল ইসলাম, পিতা- নুর ইসলাম, বর্তমান ঠিকানা-বাইপাইল, আশুলিয়া, ঢাকা নাম ধারণ পূর্বক একটি ভূয়া জন্ম সনদ তৈরি করে। সনদপত্রের মাধ্যমে সে একটি এনআইডির জন্য আবেদন করে, যেখানে তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে মাধবপুর, হবিগঞ্জ উল্লেখ করে। চেহারা পরিবর্তন করার জন্য সে এসময় ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং তার আসল নাম আদম খান এর পরিবর্তে নিজেকে রফিক নামেই আশুলিয়ায় পরিচিত করে।

পরবর্তীতে সে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে একটি এনআইডি এবং স্মার্ট এনআইডি কার্ড তৈরি করে। ধীরে ধীরে সে আশুলিয়ায় স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে এবং ছদ্মবেশে রাজমিস্ত্রীর কাজ শুরু করে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বছর সে তার গ্রামের বাড়ীতে যায়নি বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930