নেপাল সরকার একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়  নেপালের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মহা প্রসাদ অধিকারীর কর্মকাণ্ডের তদন্তের জন্য । সেই সঙ্গে অধিকারীকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু এই ঘটনা রাজনৈতিক দোষারোপের খেলাকে তীব্র করার পাশাপাশি নেপালের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে, দ্য পোস্ট লিখেছিল যে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপের মধ্যে আছে। সেই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী জনার্দন শর্মার আসন্ন সংকটের বিষয়ে গাফিলতি এবং দেশের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করার ভুয়া প্রতিশ্রুতিও অর্থনীতিবিদদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল। বাহ্যিক দুর্বলতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ বিষয়ে নজর রাখা। তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেপাল অয়েল করপোরেশন লোকসানে চলছে। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
নেপালের রাজনীতিবিদরা ভাসা ভাসা বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন যে, নেপাল শ্রীলঙ্কার পথ অনুসরণ করছে। এটা কি আদৌ সত্যি? নেপালের অর্থনৈতিক অবস্থা কি সত্যিই এতটা খারাপ? এ নিয়ে অনলাইন কাঠমাণ্ডু পোস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে তুলে ধরা হয়েছে নেপালের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

নেপালের অর্থনীতির আকার
নেপালের মোট দেশীয় পণ্য উৎপাদন (gross domestic product বা জিডিপি) ২০২০-২১ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি শেষ হওয়া অর্থবছরে ৪.২৬ ট্রিলিয়ন রুপি ছিল। জিডিপি একটি দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্য ট্র্যাক করে। সোজা কথায়, এটি একটি সূচক যা বোঝায় একটি দেশের অর্থনীতি কীভাবে কাজ করছে।

কেন একটি আমদানি বিল উদ্বেগের কারণ হলো?
যখন একটি দেশ পণ্য আমদানি করে, এর মানে অর্থের বহিঃপ্রবাহকে বোঝায়। নেপালের বার্ষিক আমদানি বিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ট্রিলিয়ন রুপি অতিক্রম করেছে। এটি ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পরে পুনর্গঠন অভিযান এবং রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধির কারণে হয়েছিল। তিন বছর পর বিদেশি পণ্য কিনতে মাত্র ছয় মাসে এক ট্রিলিয়ন রুপি খরচ করে নেপাল। দেশটি কোভিড-১৯ এর বিধ্বংসী প্রভাব থেকে নিজেকে পুনরুদ্ধার করার পর বিদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়ছিল। একটি উচ্চ স্তরের আমদানি অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে নির্দেশ করে। কিন্তু আমদানি হতে হবে উৎপাদনশীল পণ্যের যেমন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম। কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উৎপাদনশীলতাকে উন্নত করবে। কিন্তু নেপালের ক্ষেত্রে, সরকারি পরিসংখ্যান দেখায় যে, পণ্যের দাম বৃদ্ধি আমদানির বেলুনিং মূল্যের (ballooning value) পিছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি। অনেক উন্নত অর্থনীতির দেশেও দেখা গেছে ভোক্তার চাহিদা, ঘাটতি এবং অন্যান্য মহামারি-সম্পর্কিত কারণগুলো মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী। অর্থনীতিবিদ বিশ্বম্ভর পাকুরিয়াল একটি সামপ্রতিক সাক্ষাৎকারে পোস্টকে বলেছেন-‘পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমরা যদি আমাদের আয়ের এক-চতুর্থাংশ মাত্র ছয় মাসে পণ্য আমদানিতে ব্যয় করি, তাহলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিছুটা বাড়বে। কিন্তু বাস্তবতা হলো যে দেশটি অবকাঠামো প্রকল্পে কম বিনিয়োগের কারণে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধা পাচ্ছে। ‘অর্থবছরের আট মাসে, নেপাল ইতিমধ্যে পণ্য-পরিষেবা আমদানি বাবদ ১.৩০ ট্রিলিয়ন রুপি ব্যয় করেছে, যেখানে রপ্তানি ১৪৭.৭৪ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে। বাণিজ্য ঘাটতি ১.১৬ ট্রিলিয়ন রুপিতে পৌঁছে গেছে। এগুলো উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। যখন রপ্তানি ভালোভাবে কাজ করে না, তখন আমদানি বৃদ্ধি দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আঘাত হানবে। নেপালের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ১.৩৯ ট্রিলিয়ন রুপি থেকে ২০২২ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ১.১৭ ট্রিলিয়ন রুপি হয়েছে।

কীভাবে আমদানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা প্রভাবিত করে?
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হলো একটি দেশের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কা আজ যে অর্থনৈতিক অস্থিরতা প্রত্যক্ষ করছে তা বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে। শ্রীলঙ্কায়, অর্থের বহিঃপ্রবাহ বছরের পর বছর ধরে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের দিকে দেশকে নিয়ে গেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটি আমদানির উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এটি পেট্রোলিয়াম, খাদ্য, কাগজ, চিনি, মসুর ডাল, ওষুধ এবং পরিবহন সরঞ্জাম সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি করে। কিন্তু যখন শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শুকিয়ে যায়, তখন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আমদানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। শুরু হয় ঘাটতি। কোভিড-১৯ মহামারির জেরে পর্যটন শিল্প ধাক্কা খাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ভাঁড়ার আজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। শ্রীলঙ্কা আজ এতটাই সংকটে যে, কাগজ আমদানি করতে না পেরে স্কুলের পরীক্ষাই বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ১৯৪৮ সালে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পরে, শ্রীলঙ্কা ফের একবার অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। ২২শে মার্চ, সরকার পেট্রোল স্টেশনগুলোতে সহিংসতা রোধ করতে সেনাদের নির্দেশ দেয়। কারণ জ্বালানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি চালকদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। নেপালও আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। দেশটি পেট্রোলিয়াম, খাদ্য, চিনি, মসুর ডাল, ওষুধ এবং পরিবহন সরঞ্জাম সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি করে। যদি দেশটি তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় তবে নেপালও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাবে। দেশ ইতিমধ্যেই ‘প্রথম স্তরের’ সংকটে রয়েছে, বলেছেন অর্থনীতিবিদ মিন বাহাদুর শ্রেষ্ঠ।

নেপালের বৃহত্তম আমদানি কি?
নেপালের সবচেয়ে বড় আমদানি পেট্রোলিয়াম পণ্য। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পেট্রোলিয়াম, লোহা ও ইস্পাত এবং যন্ত্রপাতি আমদানি ১০০ বিলিয়ন রুপি ছাড়িয়েছে। কাস্টমস বিভাগের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পেট্রোলিয়াম আমদানি বিল ১৮৪. ৯৮ বিলিয়ন রুপি পৌঁছেছে, তারপরে ১২৭.৭৫ বিলিয়ন রুপির লোহা ও ইস্পাত এবং ১০০.৩৭ বিলিয়ন রুপির যন্ত্রাংশ আমদানি হয়েছে। প্রথম আট মাসে পরিবহন যান ও যন্ত্রাংশ আমদানি হয়েছে ৭৫.৯৫ বিলিয়ন রুপি। নেপাল, একটি কৃষিপ্রধান দেশ, এটি ৫৬.৯৩ বিলিয়ন টাকার শস্য আমদানি করেছে, তারপরে আছে ৪৩.৭৪ বিলিয়ন রুপির অপরিশোধিত সয়াবিন তেল, ৫২.২২ বিলিয়ন রুপির ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য এবং ৪৬.১৯ বিলিয়ন রুপির ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম।

নেপালের বৃহত্তম রপ্তানি কি?
আমদানির বিপরীতে, প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১১৮.৮৫ বিলিয়ন রুপি, যার ফলে ৮৮০.৪৯ বিলিয়ন রুপির বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে। নেপালের বৃহত্তম রপ্তানি হলো সয়াবিন তেল, যদিও দেশটি খুব কম সয়াবিন তেল উৎপাদন করে, বার্ষিক মাত্র ৩১,৫৬৭ টন কাঁচা সয়াবিন উৎপন্ন হয় দেশে। এটি তার নিজস্ব জনসংখ্যার প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট নয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ১৭১,৬৬১ টন প্রক্রিয়াজাত সয়াবিন তেল রপ্তানি করেছে নেপাল। দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি হলো পাম তেল, যা নেপাল এক ফোঁটা উৎপাদন করে না। নেপাল ৩০.৮২ বিলিয়ন রুপির অপরিশোধিত পাম তেল আমদানি করেছে এবং ৩৫.৩৩ বিলিয়ন রুপির প্রক্রিয়াজাত পাম তেল রপ্তানি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া (সাফটা) চুক্তির অধীনে নেপালি পণ্যের উপর শুল্ক ছাড়ের ফলাফল নেপালি ব্যবসায়ীরা উপভোগ করছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের রপ্তানি বেড়েছে তাতে এখনই খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আমদানি আটকাতে সরকার কি ব্যবস্থা নিয়েছে?
বেলুনিং আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকার বেশকিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ক্রমহ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের জন্য ১০ ধরনের পণ্য আমদানিকে আটকাতে চলেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানিকারকদের তালিকাভুক্ত পণ্য আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে ১০০ শতাংশ মার্জিন রাখা বাধ্যতামূলক করেছে। নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংকের মতে, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, তামাক, রৌপ্য, আসবাবপত্র, চিনি, মিষ্টি, গ্লুকোজ, মিনারেল ওয়াটার, এনার্জি ড্রিংকস, প্রসাধনী, শ্যাম্পু, চুল, তেল, রং, ক্যাপ, পাদুকা, ছাতা এবং নির্মাণ সামগ্রী যেমন ইট, মার্বেল, টাইলস এবং সিরামিক ইত্যাদি আমদানি করার জন্য ব্যবসায়ীদের ক্রেডিট লেটার খুলতে ১০০ শতাংশ মার্জিন রাখতে হবে। মোটরসাইকেল এবং স্কুটার আমদানিকারকদের ৫০ শতাংশ মার্জিন পরিমাণ রাখতে হবে এবং ডিজেলচালিত প্রাইভেট অটোমোবাইলের আমদানিকারকদেরও বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ শতাংশ মার্জিন পরিমাণ রাখতে হবে। কিন্তু আমদানি বিল কমার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। গত সোমবার অর্থের বহিঃপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নেপালি ব্যাংকগুলো বলেছে যে, তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে একটি ‘মৌখিক নির্দেশ’ পেয়েছে যাতে দেশের দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বহিঃপ্রবাহ রোধ করার জন্য অ-প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করার ক্ষেত্রে ক্রেডিট লেটার (এলসি) খোলা থেকে ব্যবসায়ীদের ‘নিরুৎসাহিত’ করা হয়। নেপাল ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি অনিল কুমার উপাধ্যায় সমপ্রতি পোস্টকে বলেছেন, ‘নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংকের নির্দেশে কাজ করে, আমরা অ-প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য এলসি খোলাকে নিরুৎসাহিত করেছি।’ জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন ভাইস- চেয়ারম্যান শ্রেষ্ঠা বলেছেন, ‘আমদানি বিধিনিষেধের ব্যবস্থাগুলো সরকারের নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।’

সরকারের রাজস্বের প্রধান উৎস কি কি?
নেপাল সরকার একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এটিকে পণ্য আমদানি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যেখান থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আসতে পারে। বিলাসবহুল দ্রব্য দেশের রাজস্বের প্রধান উৎস। রাজস্ব সংকুচিত হলে, অর্থনৈতিক সংকট আসন্ন। শুল্ক বিভাগের মতে, রাজস্বের ক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলো চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৮১.৫৮ বিলিয়ন রুপি অবদান রেখেছে, তারপরে যানবাহন যা কর রাজস্বে ৭০ বিলিয়ন রুপি অবদান রেখেছে, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ১৬.৩৫ বিলিয়ন রুপি, প্লাস্টিক ১২.৭৭ বিলিয়ন রুপি এবং পশু বা উদ্ভিজ্জ চর্বি কর রাজস্ব হিসাবে ১০.৩৫ বিলিয়ন রুপি অবদান রেখেছে।

নেপাল কি সত্যিই শ্রীলঙ্কার পথে যাচ্ছে?
নেপালের মতো, শ্রীলঙ্কা একটি ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশ। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি নেপালের চেয়ে প্রায় ১.৫ গুণ বড়। ২০১৯ সালে একটি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার পর থেকে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল যা তার পর্যটন শিল্পকে আঘাত করেছিল। এরপর মহামারির হানায় পর্যটন থেকে প্রাপ্ত আয় একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ব্যাপক ঋণের বোঝা চেপেছে শ্রীলংকার ঘাড়ে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব আসন্ন সংকট মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজার পক্ষে পরিবারের কিছু ভুল পদক্ষেপ যেমন কর কমানোর সিদ্ধান্ত, রাসায়নিক সার আমদানি নিষিদ্ধ করা মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের জন্য দায়ী। দেশে ধান উৎপাদন ব্যাপকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। বিল পরিশোধের জন্য এখন শ্রীলঙ্কার অর্থ ফুরিয়ে গেছে।

নেপালে পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং অটোমোবাইলের মতো কিছু বিলাসবহুল আইটেম আমদানির কারণে চাপ অনুভব করা সত্ত্বেও নেপালের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় সাড়ে সাত মাসের জন্য পণ্য ও পরিষেবার আমদানির জন্য যথেষ্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের পণ্য আমদানি রোধে চিন্তাভাবনা করছে। অর্থনীতিতে বড় অবদানকারী রেমিট্যান্সের গতি কমে যাওয়ায় কিছুটা বাড়তি চাপ রয়েছে। পর্যটন, অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। মহামারি দ্বারা এই সেক্টরটি কঠোরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলেও ধীরে ধীরে এটি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। যেহেতু নেপালের মুদ্রা ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাই একটি বিশাল অবমূল্যায়নের সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। মার্চ মাসে নেপালে ৪২,০০৬ জন বিদেশি পর্যটক এসেছেন, যা প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031