বিশ্বজুড়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইউক্রেন যুদ্ধের তিন মাস যেতে না যেতেই । জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে- এ যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে অস্থির হয়ে পড়েছে মুদ্রাবাজার। এর পাশাপাশি হাজারো মানুষের প্রাণহানি, অঙ্গহানি তো রয়েছেই। আর রয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষের শরণার্থী হয়ে পড়ার করুণ গল্প। ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংবাদমাধ্যম দি কনভারসেশন ডট কম নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। অনুবাদ: যুবা রহমান

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ দেশগুলো তুলনামূলক দরিদ্র ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি পৃথক রাষ্ট্র হয়েছে। সেগুলোরই একটি ইউক্রেন। তিন মাস আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেখানে ধ্বংসাত্মক আগ্রাসন শুরু করে। ওই অঞ্চলের দেশগুলো চলমান যুদ্ধে ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

১. বিকল্প ভূ-রাজনীতি

ইউক্রেন যুদ্ধ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি বদলে দিতে শুরু করেছে। বাল্টিক দেশগুলো যেমন ইস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুনিয়া (যারা ইতোমধ্যে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য লাভ করছে) এবং ইরোপিয়ান ইউনিয়ন রুশবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া জর্জিয়া ও মোলদোভা পশ্চিমা জোটে যোগ দিতে বেশ আগ্রহী। কিন্তু তারা রাশিয়াকে খেপাতে চায় না। একমাত্র বেলারুশ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ ছাড়া সোভিয়েত আমলের বাকি রাষ্ট্র যেমন আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কেমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তান ‘চুপ’ থাকার নীতি অবলম্বন করে চলেছে। এ দেশগুলো ইউক্রেনের সহায়তাও করছে না আবার পুতিনের নিন্দাও করছে না। এমনকি জাতিসংঘে রাশিয়ার নিন্দা প্রস্তাবে এ দেশগুলো অনুপস্থিত ছিল কিংবা ভোটদানে বিরত ছিল। এ দেশগুলো রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘোষিত স্বাধীন রাষ্ট্র দনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বীকৃতি দেয়নি আবার ইউক্রেনকে কোনো ধরনের অস্ত্র সহায়তা দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা পশ্চিমা জোট ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে।

২. কিছু দেশ দরিদ্র হচ্ছে

সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশগুলো দরিদ্র হয়ে পড়ছে। এ যুদ্ধের কারণে আঞ্চলিক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। ইতোমধ্যে ইউক্রেন তার জিডিপির ৪৫ শতাংশ হারিয়েছে। বাণিজ্য খাত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নৌ যোগাযোগ পথ কৃষ্ণ সাগর থেকেও তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনীয় শস্য ও সূর্যমুখী তেলের সর্বনাশ হওয়ায় বিশ্বে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর পর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দনবাস যদি রুশ দখলে চলে যায় তা হলে নিকট ভবিষ্যতে হাইড্রোকার্বন ও খনিজ খাতে দেশটি ক্ষতির শিকার হবে।

ইউক্রেনে আক্রমণের প্রতিবাদে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা শুধু রাশিয়া ও রুশ জনগণকেই আঘাত করেনি। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন ও জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে। যেসব দেশ রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল যেমন তাজিকিস্তান ও গিরগিস্তানের মতো দেশগুলোতে রেমিট্যান্স নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডের’ মতো অবকাঠামোর কাজ কিছু জায়গায় স্থগিত রাখা হয়েছে। বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

৩. ভিন্নমত উসকে দিচ্ছে

এ যুদ্ধ সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে। জর্জিয়া ও গিরগিস্তানে আন্দোলনকারী জনগণ ইউক্রেনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে তাদের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে ওই এলাকার সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। মোলদোভা, বেলারুশ ও জর্জিয়ায় বহু ইউক্রেনীয় শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।

রুশ শাসনে কী পরিবর্তন আসছে

প্রশ্ন উঠেছে এ যুদ্ধ রুশ শাসন নিয়ে কী ধরনের অর্থ বদল করেছে? এটি মূলত তার ওপর নির্ভর করছে- কখন ও কীভাবে যুদ্ধ শেষ হয় এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। প্রথমত বিপর্যস্ত রুশ অর্থনীতি পশ্চিম থেকে মুখ ফিরিয়ে অনেকটা পূর্বমুখী হবে। পুতিনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ইউরোশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন তৈরি করার। তবে এটি যদি প্রবৃদ্ধি তৈরি করতে না পারে তা হলে তা কার্যকর হবে।

যেসব দেশের অর্থনীতি রুশনির্ভর- সেগুলো ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে এসব দেশ কোনো না কোনোভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে। । এর পাশাপাশি রাশিয়া ভারত ও চীনের দিকে বাণিজ্য সহায়তার হাত বাড়াবে।মধ্য এশিয়ার দেশগুলো রুশনির্ভরতা কমাবে না

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930