হামাস জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হাতে জিম্মি থাকা অনেকে নিহত হয়েছেন। আর যারা এখনও বেঁচে আছেন তাদের অবস্থা খুবই করুণ বলে । এর জন্য দায়ী করা হয়েছে ইসরায়েলকে।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় হামাসের হাতে আটক অনেক বন্দির নিহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্বাধীনতাকামী এই গোষ্ঠীটির সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র রোববার জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এসব বন্দি যে ভাগ্যবরণ করেছেন তার জন্য ইসরায়েলি নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন তিনি।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু ওবেইদা বলেছেন, ‘শত্রুপক্ষের অনেক বন্দি এবং আটক ব্যক্তিদের ভাগ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কী ঘটেছে তা অজানা রয়ে গেছে এবং বাকিরা (যারা জীবিত আছেন) সবাই ইহুদিবাদী আগ্রাসনের কারণে অজ্ঞাত সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছে।’

তিনি বলেছেন, ‘সম্ভবত, তাদের (বন্দিদের) মধ্যে অনেকেই সম্প্রতি নিহত হয়েছে। বাকিরা প্রতি ঘণ্টায়ই মহাবিপদের মধ্যে রয়েছেন এবং এর জন্য শত্রুর (ইসরায়েলের) নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে দায়ী।’

আবু ওবেইদা বলেন, ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ থেকে গোষ্ঠীর মিত্ররা হামাসকে জানিয়েছিল, তারা আগামী দিনগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ‘তাদের আক্রমণ আরও প্রসারিত করবে’।

আবু ওবেইদা গাজা উপত্যকায় মসজিদ ধ্বংস করে ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ শুরু করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকেও অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জায়নবাদী শত্রু ১০০ দিনের মধ্যে, গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ মসজিদ ধ্বংস করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা (মসজিদ) অপবিত্র করেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে এবং বুলডোজার দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে এবং নামাজের আযান বন্ধ করে দিয়েছে… এটি স্পষ্টতই ধর্মীয় যুদ্ধ।’

প্রসঙ্গত, মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচারের জবাব দিতে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামে একটি অভিযান চালায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডেরৃ স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

হামাসের এই হামলায় নিহত হন কমপক্ষে ১২০০ ইসরায়েলি। নিহতদের প্রায় ৩০০ জন সেনাসদস্যও ছিলেন। এছাড়া সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকসহ আরও দুই শতাধিক মানুষকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।

হামাসের হাতে আটক বিপুল এসব বন্দির মুক্তি দাবি করেছে ইসরায়েল। আর এ লক্ষ্যে গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031