৭ অক্টোবর ইসরাইলের ভেতরে হামলাকে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস । তারা স্বীকার করেছে, ওই দিনের হামলায় কিছু ‘ত্রুটি’ ছিল। তবে তাদের টার্গেট ছিল কেবল ইসরাইলি সৈন্য এবং অস্ত্র বহনকারী ব্যক্তিরা।

রোববার ১৬ পৃষ্ঠার ওই ব্যাখ্যা প্রকাশ করে হামাস। ‘আওয়ার ন্যারেটিভ’ নামের ওই প্রতিবেদনে তারা জানায়, ৭ অক্টোবরের ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামের অপ্রত্যাশিত হামলার প্রেক্ষাপট এবং পদ্ধতি নিয়ে ‘ব্যাখ্যা’ দিতে চায় তারা।

ওই হামলার পর এটাই হামাসের প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য। হামাস জানায়, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় এটি ছিল একটি প্রয়োজনীয় ও স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।’

আল জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, হামাস যোদ্ধারা ৭ অক্টোবর গাজার দক্ষিণ সীমান্ত প্রাচীরের আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়ে। ওই হামলায় অন্তত ১,১৩৯ জন নিহত হয়। এদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া হামাস যোদ্ধারা প্রায় ২৪০ জনকে আটক করে গাজায় নিয়ে আসে।

ইতোমধ্যেই নভেম্বরের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির সময় প্রায় ১০০ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে ইসরাইলি কারাগারে আটক প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়া হয়।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলছে, হামাস যোদ্ধারা ওই হামলার সময় নির্যাতন, ধর্ষণ, অঙ্গহানিসহ যুদ্ধাপরাধ করেছে। হবে হামাস যৌন সহিংসতা বা অঙ্গহানির মতো অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

হয়তো কিছু ত্রুটি ছিল

হামাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের টার্গেট ছিল ইসরাইলি সামরিক স্থাপনাগুলো। তারা চাচ্ছিল, ইসরাইলি সৈন্যদের বন্দী করতে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, এতে করে ইসরাইলি কারাগারগুলোতে আটক হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি করতে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

গ্রæপটি জানায়, বেসামরিক লোকদের ক্ষতি করা এড়াতে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসসাম ব্রিগেড ‘ধর্মীয় ও নৈতিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বেসামরিক লোকদের ওপর কোনো হামলা হয়ে থাকলে তা হয়েছে দুর্ঘটনাক্রমে এবং তা হয়েছে দখলদার বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে।’

হামাস আরো জানায়, ওই হামলায় ‘হয়তো কিছু ত্রæটি হয়েছে।’ তবে তা হয়েছে ‘ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী, সামরিক ব্যবস্থার দ্রæত পতনের ফলে এবং গাজার কাছাকাছি এলাকার সৃষ্ট গোলযোগের কারণে।’

হামাসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘বিভ্রান্তি থাকায় অনেক ইসরাইলি নিহত হয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও পুলিশে হাতে।’

ওই হামলার পর ইসরাইল গাজায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার গ্রæপগুলো গাজায় যুদ্ধাপরাধ চালানোর জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে।

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অস্বীকৃতির ব্যাপারে হামাস জানায়, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি যে ফিলিস্তিনিদের তাদের ভবিষ্যত নির্মাণ এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি নির্ধারণ করার সক্ষমতা রয়েছে।

হামাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো অধিকার ‘দুনিয়ার কোনো পক্ষের নেই।’

প্রতিবেদনটিতে হামলার কারণগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। এত ইসরাইলের বসতি নির্মাণ, ফিলিস্তিনি ভ‚মিকে ইহুদিকরণ এবং ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা বলা হয়।

সূত্র : আল জাজিরা

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031