বিএনপি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে কালো পতাকা হাতে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে । দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধŸগতি প্রতিবাদ এবং ‘অবৈধ’ সংসদ বাতিলসহ এক দফা দাবিতে সারাদেশে ২ দিন কালো পতাকা মিছিল করবে দলটি।

রোববার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি হচ্ছে : আগামী ২৬ জানুয়ারি সব জেলা সদরে এবং ২৭ জানুয়ারি সব মহানগরে এই কর্মসূচি হবে।

রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধগতির প্রতিবাদে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অবৈধ সংসদ বাতিলসহ একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কালো পতাকা মিছিল হবে।’

গত ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর থেকে ৭ জানুযারি নির্বাচন পর্যন্ত পাঁচ দফায় ৭ দিন হরতাল করেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এ ছাড়া ১২ দফায় ২৩ দিন সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে তারা। এ ছাড়া অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে ৮ দিন গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছে দলটি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণসংযোগ ও আলোচনা সভা মতো নিরীহ ও ঘরোয়া কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এবারই প্রথম কালো পতাকা নিয়ে রাজপথে নামছে দলটি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতা-কর্মী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ‘দৃঢ় আশা’ করেছিলেন। সিনিয়র নেতারাও তাদের এমন বার্তাই দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কার্যত এর কিছুই হয়নি। বাস্তবে ক্ষমতার রশি শক্ত হাতেই ধরেছে আওয়ামী লীগ। পশ্চিমা দেশগুলো ‘একতরফা’ নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো পদক্ষেপ নেবে এমন আশাও ছিল বিএনপি নেতা-কর্মীর মধ্যে। কিন্তু ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এর কিছুই দৃশ্যমান হয়নি। উল্টো পশ্চিমারা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে, অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিচ্ছে। এমন অবস্থায় বিপর্যস্ত নেতা-কর্মীর ‘মনোবল’ ধরে রাখতে রাজপথের কর্মসূচি দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে দলটির হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসেবে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এ মাসেই সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

সূত্রমতে, এখনই আন্দোলন বেগবান করলে বা কঠোর কর্মসূচি দিলে নেতা-কর্মীর মুক্তিতে বাধা আসতে পারে এমন বিবেচনায় নিরীহ গোছের কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। নেতা-কর্মীর জামিন প্রক্রিয়া ভালোভাবে এগুচ্ছে। নেতা-কর্মী মুক্তি পেলে আগামী মাসে ফের কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে ফেরার ভাবনাও আছে বিএনপিতে। কর্মসূচি নির্ধারণে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে প্রায় প্রতিদিন বৈঠক হচ্ছে। গত বুধবার রাতে বিএনপির পাঁচ ভাইস চেয়ারম্যান, এক উপদেষ্টা এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে পৃথক ভার্চুয়াল বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার-শনিবার স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন। বৈঠকগুলোয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধŸগতি, নেতা-কর্মীর মুক্তি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল, সরকারের পদত্যাগসহ এক দফা দাবিতে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরবর্তী আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, গণতন্ত্র ফিরে না আসা পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চলবে। তবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে আছেন তারা।

এদিকে ‘যুগপৎ আন্দোলন শরিক দল ও জোটগুলোও কালো পতাকা নিয়ে একই কর্মসূচি পালন করবে।’

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031