বিশ্ব রাজনীতি ও মুসলিম উম্মাহর সংকট: একটি নির্মোহ বিশ্লেষ
আ স ম আক্তার হোসেন
বর্তমান বিশ্বে ক্ষমতার যে মেরুকরণ আমরা দেখছি, সেখানে মুসলিম দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। মহান সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর মঙ্গলে এবং মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েছেন। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে আত্মনির্ভরশীল হতে এবং মেধা ও বিবেককে কাজে লাগিয়ে মানবতার সেবা করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অনেক সম্পদশালী মুসলিম রাষ্ট্র আজ নিজেদের পরিচালনার ভার পরোক্ষভাবে অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছে। তারা ইসলামের সেই মূল চেতনা—অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবিক ঐক্য—থেকে বিচ্যুত হয়ে আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আজ আমেরিকা ও ইসরায়েলের যে প্রভাব, তার পেছনে রয়েছে আমাদের নিজেদের অনৈক্য। যেখানে প্রতিটি মুসলমানের অধিকার রয়েছে পবিত্র মক্কা ও মদিনার ওপর, সেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনের একতরফা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। অন্যদিকে, ইরান যেভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের আত্মরক্ষা ও আধিপত্য বজায় রাখতে অটল আছে, তা বর্তমান সময়ের এক অনন্য উদাহরণ।
আন্তর্জাতিক সংস্থা বা জাতিসংঘের ভূমিকা আজ কেবল ‘গল্প-গুজব’ এবং নথিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তখন এই সংস্থাগুলো কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতপক্ষে, পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষা ছাড়া এই ধরনের অকার্যকর সংগঠনের আর কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
পরিশেষে বলতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম বিশ্ব আত্মনির্ভরশীল না হবে এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের মেধা ও সম্পদকে মানবতার কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যবহার না করবে, ততক্ষণ প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। আমাদের উচিত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সেই মহান আদর্শে ফিরে যাওয়া, যেখানে ন্যায়ের জয়গান গাওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য।
আমার নিজের নিজস্ব বিশ্লেষণ
