ছবি: প্রথম আলো

 আমন্ত্রিত অতিথি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের ছররা গুলিতে দুই চোখের আলো নিভে গিয়েছিল মাহবুব আলমের (২৯)। সেই মাহবুব এখন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গ্যালারিতে বসে তিনি শুনবেন সংসদ সদস্যদের আলোচনা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ওই অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত মাহবুব আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘চোখে না দেখলেও সংসদের আলোচনা নিজের কানে তো শুনতে পাব! তবে চোখে দেখতে পেলে আরও ভালো লাগত।’

মাহবুবের এখন একটাই চাওয়া—বাংলাদেশ ভালো থাকুক। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে আমার মতো যাঁরা চোখ হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন, দেশের মানুষ যেন তাঁদের পাশে থাকে। সরকারও যেন তাঁদের পাশে দাঁড়ায়, সেটাই আমার চাওয়া।’

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মোড় ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিল ছাত্র-জনতা। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটার পাশাপাশি এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে। সেদিন ছোট শিক্ষার্থীদের ভিড় থেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের গুলি সরাসরি মাহবুবের মাথা ও চোখে বিদ্ধ হয়। এরপর রাজধানীর চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ভারতের চেন্নাই ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা করালেও তাঁর চোখের আলো আর ফেরেনি।

মাহবুবের মাথার বাঁ পাশে এখনো ৩২টি ও চোখের ভেতরে ৯টি ছররা গুলি রয়ে গেছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তাঁর পরিবার জানিয়েছে, মাহবুবের চোখের নার্ভ ছিঁড়ে গেছে, পর্দা ফেটে গেছে এবং গুলি মাথার হাড় ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসাতেও সুফল পাওয়ার আশা ক্ষীণ।

চোখ হারানোর পর থেকে মাহবুব একা চলাফেরা করতে পারেন না, সব সময় অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হয়। এই শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যেই তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে গেছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহবুবকে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আজ জেলা প্রশাসনের একটি গাড়িতে করে মাহবুব ও তাঁর মা হালিমা বেগমকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। আগামীকাল অধিবেশন শেষে তাঁদের আবার নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930